২০১৬ সালে ‘আইসক্রিম’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করেন শফিকুল রাজ। প্রথম সিনেমায় আলো ছাড়াতে না পারলেও ‘ন ডরাই’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে সবার দৃষ্টি কাড়েন। চলতি বছরে ‘পরাণ’ ও ‘হাওয়া’ দিয়ে ব্যাক টু ব্যাক বাজিমাত। সবশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দামাল’ অভিনয়ের মুন্সিয়ানা।
জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ার সুবাদে এই নায়ক বাড়িয়েছেন তার পারিশ্রমিকের পরিমাণও। শোনা গেছে, নতুন চলচ্চিত্রের জন্য ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক দাবি করছেন রাজ! যা ঢালিউডে বিরল ঘটনাই বটে। কারণ, ঢাকাই সিনেমার শীর্ষনায়ক শাকিব খান ছাড়া এত বেশি পারিশ্রমিক ঢালিউডে আর কেউ নেন বা পান বলে শোনা যায়নি আগে।
অনেকে তার এই পারিশ্রমিক আকাশচুম্বী মনে করলেও রাজ মনে করছেন বিষয়টি স্বাভাবিক। এর ব্যাখ্যাও তিনি দিয়েছেন। বলেছেন, ‘একজন আর্টিস্ট কতদিন পর কত টাকা পারিশ্রমিক নেবেন, এটা কে ঠিক করে দেবেন? আমার কথা যদি বলি, আমি কিন্তু এক মাসের মধ্যে একটা সিনেমা করি না। আমার দীর্ঘ সময় লাগে। তো সেই আট-নয় মাস আমার জীবনযাপনের খরচ তো মেটাতে হবে। যেহেতু আমার এটাই পেশা। সেই হিসাবেই আমি পারিশ্রমিক চাচ্ছি।’
তবে রাজের এতো বেশি পারিশ্রমিক দাবিকে অযৌক্তিক বলে মনে করেন অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমার পরিচালক বদিউল আলম খোকন।
তিনি একটি সংবাদমাধ্যমে বলেন, “রাজের এই পারিশ্রমিক দাবি করাটা একেবারেই অযৌক্তিক। এ বছর তার পরপর দুটি সিনেমা হিট করেছে। কিন্তু তৃতীয় ছবি ‘দামাল’ কি হিট করেছে? করেনি কিন্তু। তার মানে তিনি সম্ভাবনা দেখালেও ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা মজবুত করতে পারেনি। ঠিক এ সময় এমন পারিশ্রমিক চাওয়ার কোনো মানে দেখি না। এটাই হচ্ছে আমাদের এখানকার আর্টিস্টদের সমস্যা। তারা নিজের জায়গা মজবুত করার আগেই ইচ্ছামতো পারিশ্রমিক দাবি করেন।’
তিনি বলেন, ‘রাজের পারিশ্রমিক হওয়া উচিত পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা। আর তিনি যদি দাবি করেন ৩০ লাখ, তাহলে আসুন হিসাব করি। তাকে আর নায়িকার পারিশ্রমিকেই চলে যাবে ৫০ লাখ। এখন প্রতিদিন শুটিংয়ে খরচ হয় দেড় লাখ টাকার মতো। সবমিলিয়ে একটি সিনেমা শেষ করতে লেগে যাবে দেড় কোটি টাকা। কিন্তু সিনেমা মুক্তির পর দেখা যাবে সেটা থেকে উঠে আসবে ৩০-৪০ লাখের মতো। বাকি এক কোটি টাকা নির্ভর করবে ভাগ্যের ওপর। ফলাফল যদি এই হয় তাহলে কেউ সিনেমায় লগ্নি করবেন?’
কথা প্রসঙ্গে শাকিব খানের উদাহরণ টেনে খোকন বলেন, ‘শাকিব যেসময় তার পারিশ্রমিক ৩০ লাখ করলেন, তখন সারাদেশে হল ছিল প্রায় আট শ। সবগুলো হলেই তার সিনেমার চাহিদা ছিল, ব্যবসাও করেছে। আর এখন চলচ্চিত্রের যে অবস্থা, সিঙ্গেল স্ক্রিন একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আর তার সিনেমা সিঙ্গেল স্ক্রিনকে ভালো রাখতে সহায়কও না। তিনি সিনেপ্লেক্স নির্ভর আর্টিস্ট। সুতরাং ক্যারিয়ার মজবুত না হতেই এত পারিশ্রমিক দাবি করে কোন যুক্তিতে?’
