শাকিবকে গাইড করার মতো কেউ নেই, তিনি কথাবার্তাও শোনেন না: সোহান

বলা হয়ে থাকে, অনুরাগী ছাড়া একজন তারকার অর্জন শূন্য। আর তাই তাদের মনে জায়গা করে নিতে চলে আপ্রাণ চেষ্টা। একবার যদি জায়গা করে নেওয়া যায়, তাহলে ভালো কিংবা খারাপ— সবসময় তাদের পাশে পাওয়া যায়। তারাই নিঃশ্বার্থভাবে আগলে রাখেন প্রিয় তারকাকে।

শাকিবিয়ানদের কথাই ধরা যাক। অফলাইন হোক আর অনলাইন— তারা সবসময় সুপারস্টার শাকিব খানের বন্দনায় মত্ত থাকেন। কেউ তার সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বললে প্রতিবাদে সরব হন। শুধু তাই নয়, ভাইজানের খারাপ সময়ে পাশে থাকেন ছায়ার মতো।

এই যেমন, বুবলীর সঙ্গে গোপন বিয়ে ও সন্তানের খবর প্রকাশ্যে আসতেই শাকিবের সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠেন নেটিজেনরা। অধিকাংশ নেটাগরিক এ নায়কের চরিত্রের ময়নাতদন্ত করছেন কয়েকদিন ধরে। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম শাকিবিয়ানরা। আলোচনা-সমালোচনা যাই হোক, তারা এই খারাপ সময়ে ভালোবাসার নায়কের পাশে আছেন। কে কী বললেন— তা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না। তবে তারা চাইছেন, ব্যক্তিগত বিষয়গুলো পাশে রেখে এবার কাজে মন দিক তাদের প্রিয় নায়ক।

এদিকে শাকিবের ক্যারিয়ার নিয়ে শঙ্কিত বাংলা চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান। কিং খানের ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্ক পেশাগত জীবনে প্রভাব ফেলবে কি না—জানতে চাইলে সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, কিছুটা তো ফেলবেই। ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্ক দর্শকের কাছে একজন শিল্পীর ইমেজ নষ্ট করে দেয়। অতএব এ রকম সম্ভাবনা অমূলক না।’

একজন সুপারস্টারের নিজের ইমেজ ঠিক রেখে জীবন যাপন করা উচিত বলে মনে করেন সোহান। তিনি বলেন, ‘এটা তো অবশ্যই উচিত। কিন্তু অনেক সময় মানুষের জীবনে অনেক কিছু ঘটে যায়। পাশাপাশি শাকিবকে গাইড করার মতোও কেউ নেই। আবার তিনিও কথাবার্তা শোনেন না। সবার কথা মূল্যায়ন করেন না। এ রকম বিগড়ে যাওয়াটা সুপারস্টারদের ক্ষেত্রে দেখা যায়।’

এটা অতি আত্মবিশ্বাস থেকে সৃষ্ট উল্লেখ করে সোহান বলেন, ‘এটি একরকম অবহেলা ও অতি আত্মবিশ্বাস থেকে সৃষ্টি হয়। শাকিব দীর্ঘদিন চলচ্চিত্রকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। তার ভেতরেও এমন ভাবটা আসা অমূলক না। নিজেকে সবার সেরা ভাবার প্রবণতা থেকে এই অবহেলা আসে। এই যেমন দীর্ঘদিন চলচ্চিত্রে অনুপস্থিত। এটাকে ক্যারিয়ারের প্রতি তার অবহেলা বলা যায়।’

এই অনুপস্থিতি ও তার একাধিক সিনেমার ঘোষণার ফাঁকা বুলি কি বলে দিচ্ছে না তার দিন শেষ—জবাবে সোহানুর রহমান সোহান স্পষ্ট উত্তর দিতে পারলেন না। সেটা ছেড়ে দিলেন কিং খানের নতুন সিনেমার ওপর।

তিনি বললেন, ‘দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন শাকিব। ফলে দেশের সিনেমায় তার একটি অনুপস্থিতি দেখা গেছে। এখন শাকিবের দিন শেষ কি না, এটা নির্ভর করবে তার পরবর্তী সিনেমার ওপর। তার নতুন সিনেমা নিয়ে দর্শকের প্রতিক্রিয়াই বলে দেবে তার ভবিষ্যৎ।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *