মওলানা ভাসানীর জন্ম না হলে বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা হতেন না: কাদের সিদ্দিকী

নজর২৪, টাঙ্গাইল- কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেছেন, ‘মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী একজন ঐতিহাসিক নেতা। তার এ দেশে জন্ম না হলে আমরা কেউ এ পর্যায়ে আসতে পারতাম না।

 

তিনি না হলে বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা হতেন না, বাংলাদেশ হতো না। সে রকম একজন মহান নেতার মৃত্যুবাষির্কীতে তার আত্মার শান্তি কামনা ও দেশের মঙ্গল কামনা করতে এসেছি।’

 

মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) সকালে আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইলের সন্তোষে তার কবর জিয়ারত শেষে তিনি এ কথা বলেন।

 

আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আর বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক পিতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। দেশের এই হাহাকার পরিস্থিতিতে আমাদের সবার ভাসানীর জীবন ও তার চরিত্র আরও কঠিনভাবে অধ্যয়ন করা উচিত।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের এই দুর্যোগ থেকে অব্যাহতি পেতে হলে আমাদের আরও দৃঢ়, সৎ ও ত্যাগী হতে হবে। এখন হজুরের জন্ম ও মৃত্যুবাষির্কীতে হাজারও মানুষ তার কবর প্রাঙ্গণে ছুটে আসেন। কিন্তু আমরা যারা নেতা, তারা অতীতকে স্বীকার করি না। তাদের কিন্তু অনেক দুর্দশা হবে।

 

সেই জন্য বলছি, যার যে মর্যাদা বিশেষ করে স্বাধীনতায় যার যে মর্যাদা সবারই তা স্বীকার করা উচিত। দেশকে পরিচালনা করতে হলে সবাইকে নিয়ে অগ্রসর হওয়া উচিত।’

 

এসময় বঙ্গবীরের সঙ্গে দলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার বীরপ্রতিক উপস্থিত ছিলেন।

 

আরও পড়ুন-

মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ

 

নজর২৪, ঢাকা- আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর))।

 

১৯৭৬ সালের এইদিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (তৎকালীন পিজি) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। টাঙ্গাইলের সন্তোষে তাকে চির নিদ্রায় শায়িত করা হয়। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

ঢাকা ও টাঙ্গাইলের সন্তোষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে টাঙ্গাইলের সন্তোষে তার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা এবং দোয়া মাহফিল।

 

স্থানীয় প্রশাসন, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এ উপলক্ষে পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

 

১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে মওলানা ভাসানীর জন্ম। সিরাজগঞ্জে জন্ম হলেও মওলানা ভাসানী তার জীবনের সিংহভাগই কাটিয়েছেন টাঙ্গাইলের সন্তোষে। তিনি কৈশোর-যৌবন থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।

 

দীর্ঘদিন তিনি তৎকালীন বাংলা-আসাম প্রদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি ছিলেন। লাইন-প্রথা উচ্ছেদ, জমিদারদের নির্যাতন বিরোধী আন্দোলনসহ সারাজীবনই সাধারণ মানুষের কল্যাণে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন তিনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি সর্বদলীয় ওয়ার কাউন্সিলের উপদেষ্টা ছিলেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৬ সালে ফারাক্কা লং মার্চের নেতৃত্ব দেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *