বিএনপির শাসনামল ছিল দুর্নীতি আর সন্ত্রাসের রাজত্ব: প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ সরকারে থাকায় দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ক্ষমতাসীন দল দেশে গণতন্ত্র সুসংহত করেছে। তিনি বলেছেন, বিএনপির শাসনামল ছিল দুর্নীতি আর সন্ত্রাসের রাজত্ব।

গণভবনে শনিবার আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এসব কথা বলেন দলটির সভাপতি। সভায় সভাপতিত্ব করেন তিনি।

নির্বাচন নিয়ে বিরোধী পক্ষের অভিযোগের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যতটুকু স্বচ্ছতা এসেছে, তা আওয়ামী লীগের আন্দোলনের ফসল।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত সরকারে থাকতে ভোটচুরির সব আয়োজন সম্পন্ন করেছিল; ভুয়া ভোটার সৃষ্টি করেছিল।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বিএনপির শাসনামল ছিল দুর্নীতি আর সন্ত্রাসের রাজত্ব। তারা জঙ্গিবাদকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছিল বলেই তা দেশব্যাপী বিস্তার লাভ করেছিল। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং তার দুই ছেলে তারেক রহমান ও কোকো সবাই মানি লন্ডারিংয়ে জড়িত। আমরা কোকোর পাচার করা টাকা ফিরিয়ে এনেছি। দেশে এতিমদের জন্য টাকা এসেছে। খালেদা জিয়া নিজের অ্যাকাউন্টে রেখে আত্মসাৎ করেছেন।

এসময় রিজার্ভ নিয়ে সমালোচকদের জবাব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার রিজার্ভ রেকর্ড পরিমাণ বাড়িয়েছে এবং পর্যাপ্ত রিজার্ভ হাতে রেখেই সব কাজ করছে। তিনি বলেন, এখনো পাঁচ মাসের খাদ্য কেনার মতো রিজার্ভ আছে, যেটা তিন মাসের থাকলেই চলে।

সরকারপ্রধান বলেন, রিজার্ভ নিয়ে তো খুব আলোচনা, আমরা কী করেছি? আমাদের জ্বালানি তেল কিনতে হয়েছে। তেল, গম, ভুট্টা, খাদ্যশস্য কিনেছি। করোনার টিকা স্পেশাল বিমান পাঠিয়ে কিনে এনেছি। চিকিৎসায় হাসপাতাল ডেডিকেটেড করেছি। বিনা পয়সায় চিকিৎসা নিশ্চিত করেছি।

করোনাকালীন ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পরিবার থেকে আলাদা করে বাসা ভাড়া করে রাখার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, তারাও অসুস্থ না হয়, পরিবারও আক্রান্ত না হয়। ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ায় তাদের আলাদা করে একটা ভাতা দিয়েছি। যারা বিনা পয়সায় ভ্যাকসিন নিয়েছেন, চিকিৎসা নিয়েছেন তাদের উত্থাপিত প্রশ্ন নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তারা রিজার্ভ রেখে গিয়েছিল মাত্র দুই দশমিক নয় বিলিয়ন ইউএস ডলার, যেটা তিন মাসের খাবার বা আমদানি করার পয়সা হতো না। সে অবস্থা আমরা ক্ষমতায় এসে (১৯৯৬) রিজার্ভ বাড়িয়েছি। ২০০৮-এ যখন আসি তখন পাঁচ বিলিয়নের বেশি ছিল না, সেখান থেকেও ৪৮ বিলিয়ন পর্যন্ত তুলতে সক্ষম হয়েছিলাম। তাছাড়া আমাদের যে লোন, আমরা কখনো ঋণখেলাপি হবো না। তিন মাসের আমদানি খরচ হাতে রেখেই আমরা অন্য কাজ করেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *