এবার ইভ্যালির ব্যবসার ধরন বদল, থাকবে ৩টি ক্যাম্পেইন

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি নানা রকম অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল গত বছর। প্রতিষ্ঠানটি পথচলার কয়েক বছরের মধ্যেই যেমন চরম উত্থান ঘটেছিল, আবার ঠিক তেমন দ্রুতই ঘটেছিল পতন।

এর পর গত এক-দেড় বছর ধরে মামলা, গ্রেফতার, হাইকোর্ট কর্তৃক বোর্ড গঠন, কোম্পানির অডিট সম্পন্ন এবং সর্বশেষ সাবেক চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন, তার পরিবারের সদস্য এবং ই-ক্যাব ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন ডেপুটি সেক্রেটারির সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যের বোর্ড গঠন।

এ বোর্ড গঠনের পর থেকেই আলোচনায় আসে, আবারও চালু হচ্ছে ইভ্যালি। আবারও খুলেছে ইভ্যালির ধানমন্ডির প্রধান কার্যালয়, শুরু হয়েছে কার্যক্রম।

গ্রাহকের টাকা ফিরিয়ে দেওয়া ও ব্যবসায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাসহ নানা প্রতিশ্রুতি সাপেক্ষে ফের যাত্রা শুরু করছে প্রতিষ্ঠানটি। ২৮ অক্টোবর থেকে গ্রাহকেরা ইভ্যালির ওয়েবসাইটে গিয়ে পণ্য অর্ডার করতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। ইভ্যালি এবার তিন মডেলে ব্যবসা পরিচালনা করবে বলে জানা গেছে।

ইভ্যালির কার্যক্রম নজরদারি করবেন উচ্চ আদালত। তদারকি থাকবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়েরও। নতুন যাত্রা নিয়ে ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন জানান, ১৫ অক্টোবর কার্যক্রম শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু গ্রাহকদের আরও ভালো সেবা দিতে তারিখ পিছিয়ে ২৮ অক্টোবর করা হয়েছে। এবার মুনাফা ছাড়া একটা পণ্যও বিক্রি করবে না ইভ্যালি।

ইভ্যালি এবার যে মডেলগুলোতে ব্যবসা পরিচালনা করবে, সেগুলো হলো পিক এন পে, ক্যাশ অন ডেলিভারি এবং ক্যাশ বিফোর ডেলিভারি। পিক এন পে মডেলে গ্রাহকেরা ইভ্যালির ওয়েবসাইট থেকে পণ্য অর্ডার করার পর নির্দিষ্ট আউটলেটে গিয়ে টাকা পরিশোধ করে পণ্যটি সংগ্রহ করবে। ক্যাশ অন ডেলিভারি মডেলে পণ্য হাতে পেয়ে টাকা পরিশোধ করবে। আর ক্যাশ বিফোর ডেলিভারি মডেলে পণ্য বুঝে পাওয়ার আগেই টাকা পরিশোধ করতে হবে।

নতুন যাত্রা নিয়ে ইভ্যালির সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান বোর্ডের সদস্য শামীমা নাসরিন বলেন, ইভ্যালি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্টার্টাটাপের নাম। শুরু থেকে তার সাময়িক বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত ইভ্যালি ছিল গ্রাহকদের জন্য ই-কমার্সের আস্থার সবচেয়ে বড় জায়গা। সেই আস্থা এবং ভালোবাসার জায়গাটি ধরে রাখার দায়িত্বটা আমাদের। তাই এখন আমরা নতুন করে আবার যখন শুরু করছি অবশ্যই আমরা সেই জায়গাটা ধরে রাখার চেষ্টা করব।

তাই আমরা নতুন করে সিওডি (ক্যাশ অন ডেলিভারি), পিএনপিসহ (পিক অ্যান্ড পে) সিবিডি (ক্যাশ বিফোর ডেলিভারি) নামে তিনটি সার্ভিস চালু করতে যাচ্ছি। যেখানে গ্রাহক ঘরে বসে পণ্য হাতে পেয়ে টাকা পরিশোধসহ ইভ্যালির সার্ভার দেখে তারা পছন্দের প্রোডাক্টটি শপ থেকে কিনে নিয়ে আসতে পারবে এবং এ সার্ভিসগুলো উপভোগ করতে পারবে।

ইভ্যালির এখন মোট দায়-দেনা কত, গুদামে আগের পণ্য কি পরিমাণে আছে?, জানতে চাইলে শামীমা নাসরিন বলেন, আপনারা জানেন, গ্রাহক-মার্চেন্ট মিলিয়ে ইভ্যালির দায় রয়েছে প্রায় ৪০০ কোটির মতো, যা আমাদের নিরবচ্ছিন্নভাবে এক বছর ব্যবসা করতে দিলে মিটিয়ে দেওয়া সম্ভব। আর আমাদের গোডাউনে এখনো প্রায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের পণ্য পড়ে আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *