পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধানসহ ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের অভিযোগ ‘বাস্তবসম্মত’ কি না তা তদন্তেই বের হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেছেন, ‘বাবুল আক্তার অত্যন্ত চতুর মানুষ। তিনি কখন কী বলেন, সেটা ওনার ব্যাপার। সে ব্যাপারে আমার কোনো মন্তব্য নেই।’
শনিবার রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে বাংলাদেশ মহিলা ঐক্য পরিষদের আয়োজনে এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাবুল আক্তারের বিষয়টা যেহেতু পিবিআই তদন্ত করছে, তদন্ত শেষ করার আগে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। বাবুল আক্তার যে কথা বলেছেন, সেগুলো বাস্তবসম্মত কি না সেটা তদন্ত হলেই বোঝা যাবে।
তিনি বলেন, পিবিআইয়ের ওপর আমাদের ভরসা রয়েছে। পিবিআই যতগুলো অনুসন্ধান করেছে সবগুলোই বাস্তব সম্মত এবং অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে তারা অনুসন্ধান করেছে। গত ৩০ বছর আগের খুনের মামলারও তারা আসামি চিহ্নিত করেছে এবং আসামি গ্রেফতার করেছে। পিবিআই যেটা করবে সেটা ভুল করবে না বলে আমার বিশ্বাস। বাবুল আক্তার যে প্রশ্নগুলো তুলেছেন আমার মনে হয় তদন্তের পর আপনারা সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।
যারা তদন্ত করছেন তাদের প্রধানের বিরুদ্ধেই অভিযোগ, সেক্ষেত্রে তদন্তে গাফিলতির আশঙ্কা আছে কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখানে আমার মন্তব্য নেই। তদন্তের পরেই সব চলে আসবে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৫ জুন চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানার ও আর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে বাসার কাছে গুলি ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় মাহমুদা খানম মিতুকে। স্ত্রীকে খুনের ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তরের তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তার বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই বছরের আগস্টে বাবুল আক্তারকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বাবুলের করা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে তার শ্বশুরের করা মামলার অভিযোগপত্রে তাঁকে (বাবুল আক্তারকে) প্রধান আসামি করা হয়েছে।
গত বছর গ্রেপ্তার বাবুল সম্প্রতি অভিযোগ তোলেন পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদারসহ সংস্থাটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এজন্য আদালতে মামলার আবেদন করেন তিনি।
