কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় নাটোরের কলেজ শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীর প্রেম, পরবর্তীতে বিয়ের খবর। খায়রুন নাহার ও মো. মামুন হোসেন দম্পতি আবারও ঝড় তুলেছেন ভার্চুয়াল জগতে। তবে এবারের খবরটি সুখকর নয়। কারণ মাত্র আট মাস আগে ফেসবুকে প্রেম থেকে গোপনে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হলেও রোববার মরদেহ উদ্ধার হয়েছে এই কলেজ শিক্ষিকার।
মুহূর্তেই খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশিত হয় মৃত্যুর খবর। এবারও ফেসবুকে মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছেন।
অনেকের সন্দেহ শিক্ষিকার বর মো. মামুন হোসেনের দিকে। কেউ আবার দুষছেন গণমাধ্যমকে। যদিও শিক্ষিকার স্বজনদের অভিযোগ, মামুন নেশাগ্রস্ত ছিলেন। প্রায়ই খায়রুন নাহারকে মারধর করতেন।
অন্যদিকে পুলিশ বলছে, কলেজ শিক্ষিকার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তারা প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করবেন।
তবে স্বামী মামুনের দাবি, শনিবার সকালে ফজরের নামাজ পড়ে মামুন বাড়িতে ঢুকে দরজায় নক করেন। কিন্ত তাতে কোনো সাড়া না পাওয়ায় দরজা ভেঙ্গে ভেতরে এসে দেখেন গলায় ওড়না পেঁচিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলে আছেন খাইরুন নাহার।
এদিকে ওই ভাড়া বাসার দারোয়ান নিজাম উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘রাত ১১টায় বাসায় ঢোকেন মামুন। আবার আড়াইটার দিকে বের হন। এ সময় কেন বের হচ্ছে জানতে চাইলে মামুন বলেন, ওষুধ কিনতে যাচ্ছেন। পরে সকাল ৬টায় মামুন আবার ফিরে আসেন। এরপর তিনি আমাকে ডাকেন। আমি চার তলায় গিয়ে দেখি লাশ সিলিং ফ্যান থেকে নামানো।’
ভবনের বাসিন্দা ও এলাকাবাসী জানায়, রোববার ভোরে স্বামী মামুন ভবনের অন্য বাসিন্দাদের জানায় তার স্ত্রী খায়রুন নাহার শেষ রাতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আ’ত্মহ’ত্যা করেছে। লোকজন তার বাসায় গিয়ে খায়রুন নাহারের মরদেহ মেঝেতে শোয়া অবস্থায় দেখতে পেয়ে সন্দেহ হয়। তারা মামুনকে বাসার মধ্যে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়।
ঘটনার পর থেকে এলাকাবাসী ও প্রতিবেশীরা ভীড় জমিয়েছে শহরের বলারীপাড়াস্থ ওই দম্পতির ভাড়া বাসার সামনে। তাই বাড়ির ভেতরেই মামুনকে পুলিশ পাহারায় রাখা হয়। এরপর তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া। এ তথ্য জানিয়েছেন নাটোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ নাছিম আহমেদ।
নাছিম আহমেদ বলেন, প্রকৃতই কি ঘটেছে তা জানার জন্য মামুনকে হেফাজতে নেয়া দরকার। তবে বলারীপাড়ার ভাড়া বাড়ির সামনে মানুষজনের উপস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই বাড়িতেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এরপর তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এদিকে ঘটনাস্থল থেকে খাইরুন নাহারের চাচাতো ভাই সাবের হোসেন বলেন, ‘সকালে একটা কল আসে, আমার বোন নাকি আ’ত্মহ’ত্যা করেছে। খবর শুনেই গুরুদাসপুর থেকে ছুটে আসি। এসে দেখি বোনের মরদেহ মেঝেতে পড়ে আছে। মরদেহের গলায় বেশ কিছু দাগ রয়েছে। এতে মনে হচ্ছে ঘটনাটি আ’ত্মহ’ত্যা নয়, পরিকল্পিত খু’ন। আমরা এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।’
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর কাজি অফিসে গিয়ে কলেজশিক্ষক খাইরুন নাহার ও ছাত্র মো. মামুন হোসেন গোপনে বিয়ে করেন। বিয়ের ছয় মাসেরও বেশি সময় পার হওয়ার পর চলতি বছরের জুলাই মাসের শেষ দিকে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। জানাজানি হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
খাইরুন নাহার গুরুদাসপুরের খুবজীপুর এম হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক এবং মামুন নাটোর এন এস সরকারি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
