বিধবা মায়ের জন্য পাত্র খুঁজছেন ছেলে। সে জন্য ফেসবুক পেজে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন।
গত শনিবার রাতে মায়ের জন্য পাত্র চেয়ে ‘বিসিসিবি মেট্রিমনিয়াল: হেভেনলি ম্যাচ’ নামের ফেসবুক গ্রুপে বিজ্ঞপ্তি পোস্ট করেন ছেলে ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা মোহাম্মদ অপূর্ব।
বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মা-ছেলে ও মায়ের একার ছবি যুক্ত করেছেন অপূর্ব। কেন এমন সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন, সে কথাও অপূর্ব উল্লেখ করেছেন সেই বিজ্ঞপ্তিতে।
তিনি লিখেছেন, বাবা মারা গেছেন। তাই আম্মুর জন্য পাত্র খুঁজছি।
মায়ের জন্য কেমন পাত্র চান, তার বর্ণনায় অপূর্ব লিখেছেন— মায়ের সঙ্গে মানানসই পাত্র চাই। পাত্র অবশ্যই ঢাকার আশপাশের হলে ভালো হয়। শিক্ষাগত যোগ্যতা কম হলে সমস্যা নেই। পাত্রের পেশা চাকরি বা ব্যবসা-যে কোনোটা হতে পারে। তবে নামাজি হতে হবে। পাত্রকে একদম সাদামাটা হতে হবে। যিনি তার মায়ের জীবনের বাকি চলার পথের সঙ্গী হতে পারবেন। পাত্রের বয়স ৪২ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে হলে ভালো হয়।
এর পর পাত্রী হিসেবে নিজের মায়ের নাম, পরিচয়, উচ্চতা ও ঠিকানা দিয়েছেন অপূর্ব।
নিজের মায়ের জন্য পাত্র খোঁজের এই বিজ্ঞপ্তিতে ইতোমধ্যে সাড়া ফেলেছে। নেটিজেনরা অভিভূত। রোববার বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত প্রায় সাত হাজার মানুষ লাইকসহ অন্যান্য প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে মুঠোফোনে বিস্তারিত কথা বলেছেন ছেলে অপূর্ব। তিনি জানান, তাঁদের দুই ভাইয়ের সঙ্গে মায়ের আগে থেকেই বন্ধুর মতো সম্পর্ক। বাবা মারা যাওয়ার আগে থেকেই তাঁরা সবাই বড় ভাই ইমরানের করা বাড়িতে থাকেন। বড় ভাই বিয়ে করেছেন। তাঁর পাঁচ বছর বয়সী এক সন্তান আছে।
অপূর্ব বলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার পর মা তাঁর অনেক কথাই আমাদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন না। অনেক কথা বলতে গেলে তিনি একটু দ্বিধায় পড়ে যান। আমরা বড় হয়েছি। আমাদের ব্যস্ততা আছে। এ কারণে আমরা মাকে যথেষ্ট সময় দিতে পারি না। বড় ভাইয়ের সংসার আছে। আমিও ভবিষ্যতে বিয়ে করব। তখন মা আরও একা হয়ে যাবেন। তাই আমরা সবাই চাচ্ছি, মায়ের একটা সুন্দর জীবন হোক। তাঁর একজন ভালো জীবনসঙ্গী দরকার।’
অপূর্ব জানান, তিনি এ বিষয়ে তাঁর মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর সম্মতি পান। বড় ভাইও সম্মতি দেন। মা ও বড় ভাইয়ের অনুমতি নিয়েই তিনি গত শনিবার রাতে ফেসবুক গ্রুপে বিজ্ঞপ্তিটি দেন।
অপূর্ব বলেন, ‘আমি নিজে উদ্যোগী হয়ে বিষয়টিকে এত দূর নিয়ে এসেছি। এখন আমাদের একটাই চাওয়া—মায়ের জন্য একজন ভালো জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া।’
মুঠোফোনে যখন অপূর্বের সঙ্গে কথা হচ্ছিল, তখন তাঁর পাশেই ছিলেন ডলি আক্তার। এসময় তিনি বলেন, ‘আমার এক ছেলে বিয়ে করেছে। আরেক ছেলে এখনো বিয়ে করেনি। জীবনে চলতে গেলে একজন সঙ্গীর প্রয়োজন হয়। আমার স্বামী মারা গেছেন। এখন ছেলেরা আমার কথা ভাবছে। আমি সম্মতি দিয়েছি।’
ডলি আক্তার বলেন, তিনি ভালো মনের একজন জীবনসঙ্গী আশা করেন। যিনি তাঁর দুই ছেলে, ছেলেবউসহ পরিবারের সবাইকে আপন করে নিতে পারবেন।
