সুনামগঞ্জ ও সিলেটে বন্ধ হচ্ছে এটিএম বুথও

সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলে বন্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে রেল ও সড়ক যোগাযোগ। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায়ও সংকট তৈরি হয়েছে। অনেক এলাকায় মোবাইল ফোন যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। এবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ব্যাংকিং সেবাও।

বন্যার পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এটিএম বুথভিত্তিক ব্যাংকিং সেবা। এটিএম বুথ তলিয়ে যাওয়ায় এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। আবার অনেক স্থানে ব্যাংকের কার্যালয়ও ডুবে গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সুনামগঞ্জ ও সিলেটে ব্যাংকিং সেবা বন্ধের ঘোষণা দিতে শুরু করেছে ব্যাংকগুলো।

বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সিলেট বিভাগের চারটি শাখার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হচ্ছে। এগুলো হলো সিলেট উপশহর, বিশ্বনাথ, দক্ষিণ সুরমা ও সুনামগঞ্জ শাখা। পরিস্থিতির উন্নতি হলে শাখাগুলো আবার চালু করা হবে।

বেসরকারি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কাশেম মো. শিরিন ফেসবুকে ছবি শেয়ার করে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘প্রায় ৫০টি এটিএম বুথ বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। এগুলোর বেশির ভাগই সুনামগঞ্জে। সিলেটেরও কিছু বুথ রয়েছে।’

তার শেয়ার করা ছবিতে সুনামগঞ্জের ছাতকের ন্যাশনাল ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের শাখা ডুবে যাওয়ার চিত্র উঠে এসেছে।

সিলেটেও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় এই জেলার এটিএম বুথগুলো একের পর এক অচল হয়ে পড়ছে। এ কারণে সুনামগঞ্জ ও সিলেটের ব্যাংকিং সেবা বন্ধের ঘোষণা দিতে শুরু করেছে ব্যাংকগুলো।

ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলী রেজা ইফতেখার গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের বিভিন্ন ব্যাংকের সামনে প্রচুর পানি। বিশেষ করে বিশ্বনাথ উপজেলায় আমাদের একটি শাখায় কোমর পরিমাণ পানি ঢুকে গেছে। গ্রাহকরা ব্যাংকে আসতে পারেননি। আগামীকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলে ফেঞ্চুগঞ্জ ও বিশ্বনাথ শাখা বন্ধ রাখতে পারি। আর আমরা এটিএমগুলো সরিয়ে রেখেছি। ফলে বন্যাকবলিত কোনো কোনো স্থানে এটিএম সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *