কোনও একসময় বলবো যদি বেঁচে থাকি: মৌসুমী

শহুরে গরমে স্বস্তি এনে দিয়েছে বৃষ্টি। তবে শান্তির সে ঝাপটা আরও বেশি এসে পড়েছে যেন ওমর সানী-মৌসুমী তারকা দম্পতির ঘরে। ক’দিন ধরেই সংসার ভাঙার নানা আতঙ্ক ছিল। চাপা দাম্পত্য কলহে ছিল দুই তারকার মুখ দেখাদেখি বন্ধও।

তবে বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) মধ্যরাতে সানীর প্রকাশ করা ছবিতে দেখা মিললো পুরো পরিবারের। যেখানে একসঙ্গে বসে খাচ্ছেন মৌসুম ও তিনি। এরপর আসে ভিডিও। যেখানে দেখা যায়, সানী-মৌসুমীর ছেলে ফারদিন এহসান স্বাধীন গান গেয়ে মাকে হাসানোর চেষ্টা করছেন। হয়েছেন সফলও।

বিষয়গুলো যেন একতরফাভাবেই আসছিল সানী ও তার ছেলে স্বাধীনের অন্তর্জাল মাধ্যমে।

অন্যদিকে কথা বলছে মৌসুমীর সামাজিক অ্যাকাউন্টও। রাতে (১৭ জুন) ইনস্টাগ্রামে এলো চুলের ছবি প্রকাশ করে প্রিয়দর্শিনী খ্যাত এই নায়িকার মনের কিছু কথা। সেখানে ছিল বৃষ্টি ও ক’দিন ধরে চলা ঝড়ো পরিস্থিতির পূর্বাভাস।

তিনি লেখেন, ‘বৃষ্টিতে ভিজে গেলাম, বৃষ্টিও বলে লিলি ফ্লাওয়ারস তোমার জন্য। ভিজে ভিজে কিছু কথা মনে হলো, কোনও একসময় বলবো যদি বেঁচে থাকি।’

লিখেছেন, ‘খুব চেষ্টা করছি শক্ত থাকতে, অভিমানী মন বড় দুর্বল। নিজের দুর্বলতা অন্য কারও ওপর চাপিয়ে কেউ ভালো থাকতে পারে না। কষ্ট আমি নিলাম, সুখ তোমাকে দিলাম।’

সম্প্রতি অভিনেতা-প্রযোজক ডিপজলের ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে জায়েদ খানকে চড় মারেন ওমর সানী। সঙ্গে সঙ্গে জায়েদ খান পিস্তল বের করে সানীকে হু’মকি দেন—এমনটাই অভিযোগ করেছেন ওমর সানী। চড় মারার কারণ হিসেবে সানী দাবি করেন, কয়েক মাস ধরে মৌসুমীকে ডিস্টার্ব ও অসম্মান করছেন জায়েদ খান।

১১ জুন বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ১২ জুন রাতে শিল্পী সমিতিতে অভিযোগ করেন সানী। ১৩ জুন এক অডিও বার্তায় সানীর সব অভিযোগ অস্বীকার করে জায়েদ খানের পক্ষে কথা বলেন মৌসুমী। তিনি জানান, জায়েদ খান ভালো ছেলে, তিনি মৌসুমীকে কোনো রকম অসম্মান করেননি।

এর পরেই সানী জানান, এক বাসায় থাকলেও মৌসুমীর সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগই নেই তাঁর। গণমাধ্যমে মুখ খোলেন সানী-মৌসুমীর পুত্র ফারদিন। তিনি দাবি করেন, তাঁর বাবার অভিযোগ সত্য। জায়েদ খান তাঁর মাকে হয়রানি করেন। এমনকি তাঁদের ব্যবসার মধ্যেও ঝামেলা করেন জায়েদ খান।

এত সব বিতর্ক ও আলোচনার মাঝে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওমর সানীর শেয়ার করা পারিবারিক ছবিটিকে সানী-মৌসুমীর পরিবারে স্বস্তি ফেরারই ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে। আর সেই আনন্দেই হয়তো এক টেবিলে খেতে বসেছেন সানী-মৌসুমী, চলছিল বিরিয়ানি উৎসব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *