বাংলা সিনেমার পুরো ইতিহাসে সবচেয়ে সফল সিনেমার নাম ‘বেদের মেয়ে জোসনা’। ২০ কোটির বেশি আয় করা এই সিনেমার রেকর্ড আজ অব্দি কোনো সিনেমা ভাঙতে পারেনি। ইতিহাস সৃষ্টি করা এই সিনেমার নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। আশির দশকে ঢাকাই সিনেমাকে মাতিয়ে রাখা তুমুল জনপ্রিয় একজন অভিনেতা তিনি।
পর্দায় রোমান্টিক, অ্যাকশন, কমেডি কিংবা সামাজিক সাদামাটা চরিত্রে ইলিয়াস কাঞ্চনের অভিনয়ের জুড়ি নেই। বিশেষ করে পারিবারিক টানপোড়েনে বিদ্ধ সংগ্রামী পুরুষ চরিত্রের তার অভিনয় আজও দর্শকদের মনে দাগ কেটে আছে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
একুশে পদক পাওয়া এ অভিনেতা সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকের মুখোমুখি হন। কথা বলেন সিনেমার ভবিষ্যৎ, সিনেমার উন্নয়নে করণীয়সহ নানা বিষয় নিয়ে। সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো:
প্রশ্ন: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি হিসেবে আপনি শিল্পীদের অভিভাবক। আপনার কাছে জানতে চাই, ঢাকাই চলচ্চিত্র শিল্পী কোন পথে যাচ্ছে?
ইলিয়াস কাঞ্চন: দেখুন, কোনো একটি ঘটনার জন্য আমাদের সমৃদ্ধ চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে যাবে এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। এদেশের সিনেমার সোনালী অতীত আছে। সিনেমাপ্রেমী মানুষও কম নেই। কোনো একটি ঘটনা চলচ্চিত্র শিল্পকে শেষ করে দিতে পারে না। বাবা, মা, স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোনের মধ্যে কী দ্বন্দ্ব হয় না? একটি সংসারে সমস্যা হলে তার সমাধানও আছে। এটাকে এত বড় করে দেখার কিছু নেই। শিল্পী সমিতির সভাপতি হিসেবে নয়, একজন চলচ্চিত্রপ্রেমী হিসেবে বলতে পারি আমাদের চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ ভালো। আমি নিরাশ নই। হতাশাবাদীও নই। চিরকালীন আশাবাদী মানুষ আমি। এদেশে চলচ্চিত্রকে ভালোবাসার মানুষ আছেন।
প্রশ্ন: সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর সিনেমা নিয়ে আশার কিছু দেখছেন?
ইলিয়াস কাঞ্চন: অনেককিছু দেখছি। সিনেমা নির্মাণ চলছেই। সিনেমা মুক্তির সংখ্যাও বেড়েছে। গত ঈদেও সিনেমা আলোচনায় ছিল। তবে, করোনার সময়ে আমরা সবকিছুতে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। সেখান থেকে সবকিছু ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। আমাদের সিনেমাও থেমে নেই। নতুন নতুন প্রযোজক আসছেন, পরিচালক আসছেন, শিল্পীও আসছেন। দেখুন, আমাদের এখানে হল সংখ্যা অনেক কমে গেছে। কিন্তু, গত ঈদের সময়ে হল সংখ্যা অনেক বেড়েছে। এটা তো অনেক আশার কথা। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। আশার মধ্যেই বাঁচতে হবে।
প্রশ্ন: নতুন কোনো সিনেমা মুক্তি পেলে আপনাকেও প্রচারে অংশ নিতে দেখা যায়…
ইলিয়াস কাঞ্চন: আমি এটাকে পজিটিভভাবে দেখি। কারণ, প্রচারেই প্রসার। একটি সিনেমা মুক্তি পাওয়ার সময় শুধু ওই সিনেমা সংশ্লিষ্টরা প্রচারে নামবেন তা না করে এই অঙ্গনের সবাই যদি প্রচার করি, তাহলে অনেকে কাছে খবরটি পৌঁছে যায়। সেই ভাবনা থেকে এবং চলচ্চিত্রকে ভালোবাসি বলেই আমি কাজটি করি।
প্রশ্ন: চলচ্চিত্রের উন্নয়নের জন্য কী কী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন?
ইলিয়াস কাঞ্চন: এই বিষয়টি নিয়ে এত অল্প কথায় বলে শেষ করা যাবে না। চলচ্চিত্র শিল্প একটি বড় বিষয়। এই শিল্পের উন্নয়নে সরকার অনেক কিছু করছে। বর্তমানে সরকার বেশ কিছু ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়েছে। এটাকে সাধুবাদ জানাতেই হবে। চলচ্চিত্রের উন্নয়নে সিনেমা হল সংস্কার জরুরি। যেন দর্শকরা সুন্দর পরিবেশে সিনেমা দেখতে পারেন। ভালো ভালো গল্পের সিনেমার সংখ্যা বাড়াতে হবে। যারা টাকা লগ্নি করেন বা করবেন তারা যেন সেই লগ্নি করা টাকা ফিরে পান, এটার নিশ্চয়তা পেলে প্রযোজকদের সংখ্যা বাড়বে। যেভাবে সিনেপ্লেস বাড়ছে তাতে মানুষ বেশি বেশি সিনেমা দেখবে।
