মানুষের কথা কেয়ার করি না, জীবনটা উপভোগ করে যাচ্ছি: তমা মির্জা

শোবিজ অঙ্গনে তার আসা খুব ছোটবেলায়, কাজ শুরু করেছিলেন নৃত্যশিল্পী হিসেবে। পরে কিছুদিন মডেলিংও করেন তমা। এরপর পা রাখেন অভিনয় জগতে। বলছি সবার ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’খ্যাত তমা মির্জার কথা।

ছোটবেলা থেকেই তমার আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল ছবি আঁকা। এরপর আবার কবিতা আবৃত্তির প্রতিও আগ্রহ জন্মায় তমার। তবে পড়াশোনার উদ্দেশ্যে ঢাকা এসে নৃত্যশিল্পী হিসেবেই মিডিয়ায় আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। আর সেই নাচ থেকেই তমা নজরে আসেন পরিচালক এম বি মানিকের। হঠাৎ করেই তমার ডাক পড়ে চলচ্চিত্রে। তমাও সাত-পাঁচ না ভেবে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নেন। সে থেকেই তমার অভিনয়ের যাত্রা শুরু। ‘বলও না তুমি আমার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ২০১০ সালে তমা বাংলা চলচ্চিত্রে অভিষিক্ত হন।

এক যুগের ক্যারিয়ারে তমা মির্জা অর্জন করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। মশলাদার বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি গ্ল্যামারহীন চরিত্রে তমার দুর্দান্ত অভিনয়ে মুগ্ধ হয়েছেন দর্শক।

বুধবার (১ জুন) এই অভিনেত্রীর জন্মদিন। দিনটি কখনই জাঁকজমকভাবে পালন করেন না বলে জানালেন তমা। তবে তিনি তার বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষীদের শুভেচ্ছায় সিক্ত হন।

এক সংবাদমাধ্যমকে তমা বলেন, রাত ১২টা ১ মিনিটে আমার দ্বিতীয় পরিবার ‘গান বাংলা’ টিভিতে কেট কেটেছি। ওখানে আমার আম্মু, ভাইসহ মিডিয়ার অনেকে ছিলেন। তার আগে আমার আরেক বোন ও আমার বন্ধু রায়হান রাফীর সঙ্গে কেক কেটেছি। পরিচালক হিসেবে রাফীর সঙ্গে কেট কাটিনি, বন্ধু হিসেবে কেট কেটেছি। রাতটা এভাবেই গেছে। তবে আমি কখনও ফাইভ স্টার হোটেলে জন্মদিন পালন করিনি। যা হয় আমার বন্ধুরা করে। ওরা আমাকে নানাভাবে সারপ্রাইজড করতে চায়। যতটুকু করে আমাকে খুশী করার জন্য করে।

নায়িকারা বয়স বলতে চান না! এ বছর আপনার কততম জন্মদিন? প্রশ্ন করতেই সঙ্গে সঙ্গে বললেন, আমি আসলে ওপেন বুক। ১৯৯৩ সালের এই দিনে আমি জন্ম গ্রহণ করি। সেই হিসেবে এ বছর আমার বয়স ২৯ বছর। বয়স আমার কাছে নিতান্তই একটা সংখ্য। কারও বয়স ৪০ হওয়ার পরেও যদি তাকে দেখতে ২৫ বছর বয়সী মনে হয় তাহলে অবশ্যই সেটা তার ক্রেডিট। এটাকে আমি সাধুবাদ জানাই।

জীবন নিয়ে আপনার ফিলোসফি কী?, তমা মির্জা বলেন, আনপ্রেডিক্টেবল! প্রতিদিনই ভাবী অযথা চিন্তা করবো না, ক’দিনই বা বাঁচবো! যা আছে তাই নিয়ে আনন্দে থাকি। ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় বা গোছাতে গোছাতে আমাদের জীবন চলে যায়। কিন্তু আমরা সেই সঞ্চয় সঠিক ব্যবহার করতে পারি না। আমার কাছে প্যাথেটিক এটা মনে হয়। সবার জীবনে এগুলো কমবেশি হয়। আমিও এর বাইরে না।

কিন্তু সঞ্চয়ে বেশি মনোযোগ না দিয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বর্তমানের সঙ্গে হ্যাপি থাকতে পছন্দ করি। অনেকেই বলে তমা দামি ব্যাগ, ড্রেস ইউজ করে! ব্যক্তিজীবনের আরও নানান দিক নিয়ে বলে থাকে। মানুষের কথা কেয়ার করি না, আমি আমার জীবনটা উপভোগ করে যাচ্ছি। তবে কিছু কিছু সময় মানুষের কথায় খারাপ লাগে; তাই বলে আমি আমার ভালোলাগাগুলো কখনও বিসর্জন দেই না।

নির্মাতা রায়হান রাফির সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে বলেন, ‘আমরা দুজন ভালো বন্ধু। এর বাইরে নতুন কোনও নাম এখনও তৈরি হয়নি!’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *