ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল সংসদ সদস্য নুসরাত জাহানের খোঁজ চেয়ে পোস্টারিং হয়েছে। এমন পোস্টারে সয়লাব হয়েছে হাড়োয়া বিধানসভার চাপাতলা পঞ্চায়েত এলাকা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর, বসিরহাটের এই সংসদ সদস্যের নামে সোমবার লাগানো হয়েছে নিখোঁজ পোস্টার। শাসক দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই এই ধরনের পোস্টার পড়েছে বলে দাবি বিরোধী শিবিরের। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতারা।
দেগঙ্গা ব্লকের হাড়োয়া বিধানসভার চাঁপাতলা পঞ্চায়েতটি বসিরহাট লোকসভার অন্তর্গত। সোমবার এই পঞ্চায়েতের কেয়াডাঙা এবং চাঁপাতলা এলাকায় অভিনেত্রী সংসদ সদস্য নুসরাত জাহানের নামে ‘নিখোঁজ’ এবং ‘সন্ধান চাই’ পোস্টার দেখা যায়। কোনো পোস্টারের নিচে লেখা, সাধারণ জনগণ, আবার কোনোটায় লেখা প্রতারিত জনগণ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের অন্ধকারে এই পোস্টার দেওয়ালে সাঁটিয়েছে কেউ। তবে বিষয়টি তারা নৈতিকভাবে সমর্থন করছেন বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসীদের একাংশ। এলাকার বাসিন্দা সামছুর নাহার বিবি বলেন, ‘পোস্টারে যে কথা লেখা আছে তা ঠিক। ভোট দেওয়ার পর থেকে তাকে আর আমরা গ্রামে দেখতে পাইনি।’ তার মতো আরও অনেকেরই একই অভিযোগ।
এ প্রসঙ্গে দেগঙ্গার চাঁপাতলা পঞ্চায়েতের প্রধান হুমায়ুন রেজা চৌধুরী বলেন, গত ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বসিরহাটের সংসদ সদস্য ছিলেন হাজি নুরুল ইসলাম। এলাকার উন্নয়নসহ সব কাজে সাধারণ মানুষ থেকে তৃণমূলের কর্মীরা তাকে পেয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে তৃণমূল সংসদ সদস্যকে পাওয়াই যায় না। সম্ভবত সে কারণেই এলাকার মানুষ এই ধরনের পোস্টার দিয়েছে।
বিষয়টি জানার পরই দলের কর্মীদের দিয়ে পোস্টারগুলো ছিঁড়ে ফেলা হয় বলেও জানান তিনি।
পোস্টার প্রসঙ্গে বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার যুব মোর্চার সভাপতি পলাশ সরকার বলেন, ‘সাংসদ টিকটক আর সিনেমার পর্দায় রয়েছেন। তিনি অন্তরাল থেকে বেরিয়ে এসে মানুষের জন্য কাজ করুন। আসলে তৃণমূলে তার অস্তিত্ব হারিয়ে গেছে।’
সিপিএমও সুর চড়িয়েছে বিষয়টি নিয়ে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কমিটির সদস্য ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, ‘জনগণ সাংসদ নুসরত জাহানকে ভোট দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। এলাকার কোনো উন্নয়ন করেননি। তাকে মানুষ দেখতেই পায়নি। তাই তারা এই পোস্টার সাঁটিয়ে নুসরাতের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন।’
