দু’বেলা খাবারও জুটছেনা, আফসোস করলেন সেই রানু মণ্ডল

কলকাতার রানাঘাটের স্টেশনের ভিক্ষুক থেকে মুম্বাইয়ের রেকর্ডিং স্টুডিওতে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে রাতারাতি সেলিব্রেটি হয়েছিলেন। তার নাম ছড়িয়ে পড়েছিল ভারতের সবখানে। বাংলাদেশেও তাকে নিয়ে আগ্রহ ছিল দারুণ।

কিন্তু অহংকার আর বাজে ব্যবহারের জন্য সেই রানু মণ্ডলের পতন হতে সময় লাগেনি। ভাগ্যের পরিহাসে আগের অবস্থায় ফিরে গেছেন রানু। বর্তমানে অবস্থা এতোটাই নাজুক, দু’বেলা নাকি তার খাবারও জোটে না! এমনটাই বলছে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার এক প্রতিবেদন।

নিজের মুখেই নাকি নিজের কষ্টের কথা স্বীকার করেছেন রানু মণ্ডল। সঙ্গে আফশোস, ‘সবাই নিজের লাইক বাড়াতে আসে, কেউ খাবার আনে না।’

প্রতিদিনই এখনও রানু মণ্ডলকে কোনও না কোনও ইউটিউবারের চ্যানেলে দেখা যায়। তবে সেখানে তাকে দিয়ে গান গাওয়ানো, নাচ করানোর থেকে ‘ভাঁড়ামো’ বেশি হয় বলে মন্তব্য নেটিজেনদের।

এ বিষয়ে রানু জানান, ‘কেউ একটু খাবার আনে না। শুধু লাইক পাওয়ার আশায় ভিডিও করে। খিদেয় পেট তো চোঁ চোঁ করলে গলা দিয়ে আওয়াজ বেরুবে কী করে।’

রানু মনে করেন, স্টেশনে স্টেশনে কাটানো আগের জীবনই ভালো ছিলো। এখন আগের মত স্টেশনের সামনে বাটি হাতেও বসতে পারেন না! বাড়ির বাইরে পা রাখলেও অনুরোধ ভেসে আসে ‘একটা গান শোনান না’। কিন্তু খাবার দেয় না কেউ। লিকার চা-বিস্কুট খেয়ে সকালে পেট ভরান। দুপুরে ৫ টাকার সেদ্ধ চাউমিন জোটে কোনও না কোনও দিন। আর রাতে বেশিরভাগ সময়তেই ঘুমোতে যেতে হয় খালি পেটে!

পশ্চিমবঙ্গের স্টেশনে স্টেশনে থাকতেন রানু। পথে পথে ঘুরে বেড়ানোই ছিলো তার কাজ। লোকজন তাকে ‘পাগলি’ নামে ডাকতো। এই নারীই হঠাৎ করে ইন্টারনেটে আলোড়ন তৈরি করেন ২০১৯ সালে। ফিরে পান পরিবার। মুম্বাইতে ডাক পান। বলিউডের ছবিতেও গান করেন। এমনকি তাকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের কথাও সেসময় শোনা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *