ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদের মধ্যে চলমান সংঘর্ষ থামাতে এসে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।
মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে একটি কালো রঙের নোহা মাইক্রোবাসে এসে ঢাকা কলেজে আসেন তিনি। কলেজের ভেতরে পুকুর ঘাটে গাড়ি থেকে নামার পরই তাকে ঘিরে ধরেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। লেখকের সামনেই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নিষ্ক্রীয়তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
এক শিক্ষার্থী লেখককে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি তামাশা দেখতে আসছেন।’ তার কথা শেষ না হতেই আরেকজন বলেন, ‘কেন আসছেন এখানে? সারাজীবন আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে আমরা বাঁচালাম। রাত থেকে ঝামেলা চলছে। আপনাদের কেউ আসলেন না।’
জটলার মধ্য থেকে কয়েকজনকে লেখকের দিকে তেড়ে যেতে দেখা যায়। তবে এসবের জবাবে কিছু বলেননি লেখক। এসময় মোবাইলে একে-ওকে কল করে কথা বলতে দেখা গেছে তাকে।
এসময় শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগের কমিটি না হওয়ার জন্যও লেখকের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কলেজ শাখার নেতাকর্মীদের দাবি, কলেজের ছাত্রলীগের কমিটি থাকলে ব্যবসায়ীরা এত সাহস পেতো না।
এসময় জবাবে লেখক বলেন, ‘কমিটি দিলেতো রাখতে পারো না। কমিটি থাকলে আজকে যে দুই জন দায়িত্বে থাকতো, তাদেরতো বহিষ্কার করতে হতো।’
সোমবার রাত ১২টার দিকে রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় ‘কথা-কাটাকাটির জেরে’ ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী ও দুই ব্যবসায়ী আহত হন। আহত হন বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও।
এরপর মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে আবারও সংঘর্ষে জড়ান শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা। মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে তাদের ইট-পাটকেল ছুড়তে দেখা যায়। ছাত্রদের অনেকে হেলমেট পরে হাতে লাঠি নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান। বিকেল ৩টা পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষ চলছিল। সংঘর্ষে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। মারধরের শিকার হয়েছেন অন্তত সাতজন সাংবাদিক।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় ঢাকা কলেজের সব হল ৫ মে পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বিকেলের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
এতে বলা হয়, ঢাকা কলেজের সব আবাসিক শিক্ষার্থীকে জানানো যাচ্ছে যে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অদ্য ১৯ এপ্রিল ২০২২ তারিখ মঙ্গলবার থেকে ৫ মে ২০২২ তারিখ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢাকা কলেজের হলগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হলো। মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যে হল খালি করার নির্দেশ দেওয়া হলো।
