‘টিপ পরছস কেন’ কটূক্তি করা সেই পুলিশ চিহ্নিত

টিপ পরায় কলেজ শিক্ষিকাকে হেনস্তা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই কনস্টেবলের নাম নাজমুল তারেক। তিনি পুলিশের প্রটেকশন বিভাগে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

ঘটনাস্থলের আশপাশের বিভিন্ন মার্কেটে দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নাজমুলকে শনাক্ত করা হয়। সোমবার সকালে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের কর্মকর্তারা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম সোমবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ঘটনার সাথে জড়িত হিসেবে এক কনস্টেবলকে শনাক্ত করা হয়েছে। শিক্ষক যে জিডি করেছিলেন, তার যথাযথ তদন্ত হবে।

টিপ পরায় পুলিশের হেনস্তার শিকার হওয়ার কথা জানিয়ে ঢাকার তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক লতা সমাদ্দার শনিবার শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

অভিযোগে লতা সমাদ্দার লিখেছেন, শনিবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকার বাসা থেকে রিকশায় ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমার সামনে নামেন। সেখান থেকে হেঁটে তেজগাঁও কলেজে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন।

তখন সেজান পয়েন্টের সামনে থেমে থাকা একটি মোটরসাইকেলের উপর পুলিশের পোশাক পরা এক ব্যক্তি বসে ছিলেন। ওই মোটরসাইকেলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়ে ওই ব্যক্তি লতার কপালে টিপ পরা নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন।

এক পর্যায়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন পুলিশের পোশাক পরা ওই ব্যক্তি। পেছনে ফিরে ঘটনার প্রতিবাদ করায় ফের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় শিক্ষক লতাকে। তাকে উদ্দেশ্য করে ‘টিপ পরছোস কেন’ মন্তব্য করেন ওই ব্যক্তি।

লতার অভিযোগ, তিনি প্রতিবাদ করায় পুলিশের ওই সদস্য মোটরসাইকেল চালিয়ে তার গায়ের উপর উঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। সরে গিয়ে রক্ষা পেলেও আহত হন তিনি। পরে পাশেই দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশকে তিনি বিস্তারিত জানান এবং তাদের পরামর্শে থানায় গিয়ে জিডি করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *