র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত গর্হিত কাজ: প্রধানমন্ত্রী

জঙ্গিবাদ, মাদক, খাদ্যে ভেজালসহ করোনাভাইরাস মহামারিতে র‌্যাবের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিনা দোষেই যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান-র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

সোমবার সকালে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-এর ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে সংযুক্ত হন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি আরেকটা কথা স্পষ্টভাবে বলতে চাই। সেটা হলো, আমাদের দেশে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা বা র‌্যাব বা পুলিশ বা যে কেউ, তারা নিজেরা যদি কোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, আমরা কিন্তু তার শাস্তির ব্যবস্থা করি।’

তবে আমেরিকায় এ ব্যবস্থা নেই জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, যারা আমাদের বিনা কারণে, বিনা দোষে র‌্যাবের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে স্যাংশন জারি করেছে, তাদের দেশে কিন্তু এ ধরনের অপরাধ করলে, তারা কিন্তু তাদের কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনোরকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে না।’

যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের ঘটনার উদাহরণও তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘আমি স্পষ্ট বলি, আমেরিকায় কিন্তু আপনারা দেখেছেন, সেখানে কিন্তু ছোট বাচ্চা ছেলে জাস্ট পকেটে হাত দিয়েছে, তাকে গুলি করে মারল অথবা রাস্তায় ফেলে পা দিয়ে গলা টিপে মেরে ফেলে দিল। সেখানে যদি এ ধরনের অপরাধ কেউ করে অর্থাৎ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার নামে যদি কেউ কোনো অপরাধ করে, অপরাধ করলেও কিন্তু তাদের কাউকে সেখানে কোনো শাস্তি দেয়া হয় না।’

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সবার চেয়ে আলাদা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কিন্তু বাংলাদেশ একমাত্র দেশ পৃথিবীতে, যেখানে কেউ অপরাধ করলে আমরা তার শাস্তির বিধান করি।’

এরপরেও র‌্যাব ও বাহিনীটির সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘যারা এ ধরনের অভিযান করে সাফল্য অর্জন করেছে, যেমন হলি আর্টিজানে ঘটনা মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আমরা সেটা উদ্ধার করি। জলদস্যু, বনদস্যু বা মাদক বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সাফল্য, আমি জানি না আমাদের সাফল্যগুলোতে এরা কোনো দুঃখ পেয়েছে কিনা, তা আমি বলতে পারি না। কিন্তু বাংলাদেশে যে এই ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছে, এটা হলো সত্য। সে ক্ষেত্রে ধরনের একটা স্যাংশন জারি করা এটা অত্যন্ত গর্হিত কাজ বলে আমি মনে করি।’

বিদেশে থেকে যারা দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে তারা সবাই অপরাধী বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে দুঃখজনক হলো, আমাদের দেশের কিছু মানুষ, তারাই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার চালায়। আর যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে বিদেশে বসে, তারা কিন্তু অপরাধী। তারা কোনো না কোনো দোষে হয়তো চাকরি হারিয়েছে বা দেশ ছেড়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রচেষ্টা সবসময় বাংলাদেশের উন্নয়ন। একটাই লক্ষ্য ছিল, বাংলাদেশকে আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তুলব। বঙ্গবন্ধু হত্যার ২১ বছর পরে হলেও বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা শুরু হয়। আজকের এই উন্নয়নে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানসহ র‌্যাবেরও বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। কারণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা বিধানে র‌্যাবের প্রতিটি সদস্য আন্তরিকতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের কর্মদক্ষতা ও পেশাদারিত্ব এই বাহিনীকে ঈর্ষণীয় সাফল্য এনে দিয়েছে।

র‍্যাব সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ ও জাতির উন্নয়নে আপনাদের অবদান অপরিসীম। কারণ, দেশের আইনশৃঙ্খলা যদি স্থির না থাকে, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মুক্ত না থাকে, তাহলে উন্নয়ন করা সম্ভব হয় না। আজ সবার প্রচেষ্টায় দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি বলেই বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *