করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পর বেশ মন্দা অবস্থায় ছিল দেশের প্রধান পর্যটন শহর কক্সবাজার। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতটিতে এবার রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক সমাগম হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার হোটেল-মোটেলের মালিকরা।
টানা তিন দিনের ছুটিতে সৈকত এলাকার ৫১৬টি হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউজের সব কক্ষই অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। এসব হোটেলে অন্তত তিন লাখ পর্যটক থাকার ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান তারা।
হোটেল-মোটেল মালিকদের প্রত্যাশা, এই কয়েক দিনে শুধু আবাসিক খাত থেকেই আনুমানিক ১০ কোটি ৩২ লাখ টাকা আয় হবে তাদের।
ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও পবিত্র শবে বরাতকে সামনে রেখে আগামী ১৭ থেকে ১৯ মার্চ তিন দিন সরকারি ছুটি। এ কারণে পরিবার-পরিজন নিয়ে কক্সবাজার ঘুরতে আসতে শুরু করেছেন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা।
নতুন তালিকা অনুযায়ী কক্সবাজারে হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউজের সংখ্যা ৫১৬টি। এসব হোটেলে ধারণ ক্ষমতা প্রায় তিন লাখ পর্যটকের। সবকটি কক্ষই অগ্রিম বুকিং হয়ে যাওয়ায় খুশি ব্যবসায়ীরা।
আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় থাকবে ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা প্রশাসনের কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিচকর্মীরা। এ ছাড়া মোতায়েন করা হবে সাদা পোশাকধারী বিপুল পরিমাণ পুলিশও।
হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউজ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ বলেন, ‘সব গুজব বা নানা সমালোচনার মধ্যেও ভালো ব্যবসার আশা জেগেছে। দীর্ঘদিনের নানা সমস্যা বা করোনার থাবা থেকে মুক্ত হয়ে প্রথমবার বড় কোনো ব্যবসার আলো দেখছে পর্যটন শহরের ব্যবসায়ীরা। ৫১৬ হোটেল-মোটেল ও গেস্টহাউজের শতভাগ বুকিং হয়েছে। ইতিমধ্যে পর্যটন নগরীতে আসতে শুরু করেছে পর্যটক।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবি থাকবে আগত পর্যটকরা যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীন না হন। পর্যটন শিল্প ধরে রাখতে হলে পর্যটকদের গুরুত্ব দিতে হবে। না হলে বিভিন্ন গুজব ও নিরাপত্তাজনতি কারণে ধস নামবে এ শিল্পে।’
