সিনেমা অঙ্গনের বরেণ্য অভিনেত্রী ডলি জহুর। সোনালি সিনেমা যুগ থেকে শুরু করে তার কাজ এখনো সবার মনে গেঁথে আছে। তার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও অন্যান্য সংস্থা কর্তৃক প্রাপ্ত সম্মাননা বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মিউজিয়ামে দান করেছেন।
বুধবার (১৬ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে এসব পুরস্কার ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালকের কাছে হস্তান্তর করেন ডলি জহুর। বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ এসব তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ অভিনেত্রী ডলি জহুরের জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি ডকুমেন্টেশন তৈরি করে সংরক্ষণ করবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গবেষণার জন্য ব্যবহার করতে পারেন।
এ নিয়ে ডলি জহুর জানান, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ মিউজিয়ামের জন্য তার পুরস্কারের ট্রফিগুলো চাওয়া হয়েছিল। তখন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে তিনি এসব ট্রফি মিউজিয়ামে সংরক্ষণের জন্য দান করেন।
ডলি জহুর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও একাধিকবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতি কর্তৃক পুরস্কার, যায়যায় দিন প্যাসিফিক পুরস্কার, চিপাচস পুরস্কার, একতা অ্যাওয়ার্ড, কালচারাল রিপোর্টাস পুরস্কারসহ বেশকিছু সংস্থা থেকে পুরস্কার পেয়েছেন। এ সবগুলো পুরস্কারের ট্রফি তিনি ফিল্ম মিউজিয়ামে দান করেছেন।
ডলি জহুর ১৯৫৫ সালে ১৭ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পড়াকালীন মঞ্চ নাটকের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। মঞ্চ ছাড়াও নিয়মিত টেলিভিশন নাটক ও সিনেমায় দেখা যায় তাকে।
১৯৯২ সালে হুমায়ূন আহমেদের কাহিনী, সংলাপ ও চিত্রনাট্য নিয়ে মোস্তাফিজুর রহমানের পরিচালনায় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘শঙ্খনীল কারাগার’-এ রাবেয়া চরিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। ২০০৬ সালে ‘ঘানি’ চলচ্চিত্রে দারিদ্র্যপীড়িত নারী রোকেয়ার চরিত্রে মর্মস্পর্শী অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব-চরিত্রের অভিনেত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেন তিনি।
ডলি জহুর টেলিভিশন নাটকের পাশাপাশি প্রায় দেড়শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
