কৃষকের থেকে ৫ টাকায় কেনা টমেটো ঢাকায় বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা!

এবার ভরা মৌসুমেও চড়া সবজির বাজার। অথচ সবজি উৎপাদন ও বিক্রির বৃহৎ পাইকারি বাজার রংপুরে পাঁচ টাকার নিচে নেমেছে টমেটোর কেজি। একই সঙ্গে আলু, পেঁয়াজ, শিম, পেঁপে, লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শসা, গাজর, পালংশাক, লালশাক, পুঁইশাক ও কাঁচা মরিচের দাম কমেছে। কৃষকরা বলছেন, বাজারে সবজি বিক্রি করে খরচই উঠছে না। অনেকেই লোকসান গুনছেন।

বলদিপুকুর ও জায়গিরহাট পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারিতে ২০০-২২০ টাকা বড় টমেটোর মণ বিক্রি করছেন কৃষকরা। ছোট সাইজের টমেটোর মণ ১৫০-১৮০ টাকা। হিসাবে চার থেকে সাড়ে পাঁচ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে টমেটোর কেজি।

যেভাবে হয় কেনাবেচা ও হাতবদল

কৃষকরা ক্ষেত থেকে সবজি তুলে বলদিপুকুর ও জায়গিরহাট পাইকারি বাজারে আনেন। এরপর ২০০-২২০ টাকা টমেটোর মণ কিনছেন পাইকাররা। তারা টমেটো কিনে স্তূপ করে রাখেন। তাদের কাছ থেকে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা মণ কেনেন আড়তদাররা। তারা শ্রমিক ও পরিবহন খরচ দিয়ে বিভিন্ন স্থানে টমেটো নিয়ে যান। এরপর ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা মণ ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন। ব্যবসায়ীরা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন। এরপর খুচরা ব্যবসায়ীরা ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করেন। এই দাম সবসময় ওঠানামা করে কেনার ওপর। মূলত হাতবদলে দাম চার-পাঁচ গুণ বেড়ে যায়। তবে আড়তদাররা বলছেন, পরিবহন খরচ ও পথে পথে চাঁদাবাজির কারণে দাম বেড়ে যায়।

মিঠাপুকুর উপজেলার ভক্তিপুর থেকে ১০ মণ টমেটো নিয়ে বলদিপুকুর বাজারে এসেছেন কৃষক সাদেক আলী। তিনি বলেন, ১০ মণ টমেটো বিক্রি করলাম দুই হাজার টাকা। এতে জমি চাষ, উৎপাদন, সার ও শ্রমিক খরচসহ সবমিলে খরচই ওঠেনি। তবে আমাদের কাছ থেকে টমেটো কিনে চার-পাঁচ বেশি দামে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ী ও পাইকাররা।

একই কথা জানালেন বলদিপুকুর, দমদমা, মনোহরপুর, পালিচড়া থেকে ফুলকপি, বাঁধাকপি বিক্রি করতে আসা কৃষকরা। বলদিপুকুর এলাকার কৃষক মো. সাহাবুল, দমদমার মো. সোলায়মান, মনোহরপুরের শওকত আলী জানান, ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস পাঁচ টাকা দরে বিক্রি করছি। আমরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছি না।

লাউয়ের দামেরও অবস্থা একই। ১০০ লাউ বিক্রি সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা বিক্রি করছেন কৃষকরা। হিসাবে প্রতি পিস লাউ ৩০ টাকা। সেই লাউ আড়তদার নিয়ে প্রতি পিস বিক্রি করছেন ৬০-৭০ টাকা।

একই অবস্থা শিমেরও। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা। সেই শিম আড়তদারদের কাছ থেকে কিনে ৬০-৭০ টাকা বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।

মনোহরপুরের কৃষক মমতাজ উদ্দীন বলেন, কাঁচা পেঁপের পাল্লা (পাঁচ কেজি) বিক্রি করছি ৬০-৭০ টাকা। অথচ খুচরা বাজারে পেঁপের কেজি ৪০-৫০ টাকা।

কারওয়ান বাজারের আড়তদার যা বললেন

কারওয়ান বাজারের সবজির আড়তদার সফিকুল ইসলাম বলেন, ওসব পাইকারি বাজার থেকে শাক-সবজি কেনার পর আড়তে আনা হয়। সব খরচ হিসাব করে আড়তদাররা একটা দাম নির্ধারণ করে বিক্রি করেন। ওই দামে কিনে নিয়ে যান পাইকারি ব্যবসায়ীরা। তাদের কাছ থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে বিক্রি করেন। ফলে একটা সবজি চার-পাঁচ হাতবদলে পাঁচবার দাম বাড়ে। এজন্য বাজার মনিটরিং করে দাম নিয়ন্ত্রণ করতে হবে সংশ্লিষ্টদের। আর খুচরা ব্যবসায়ীদেরও বেশি লাভের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। তা না হলে বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে না। আমাদের লাভ সীমিত। আমরা তো ৫০ টাকা টমোটোর কেজি বিক্রি করি না। ৫০-৬০ টাকা বিক্রি করেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *