‘এই সমিতি নিয়ে চিন্তায় আমি গত কয়েক দিনে অসুস্থ হয়ে পড়েছি। আপনাদের (সাংবাদিকদের) সঙ্গেও হয়তো অনেক সময় ঠিকভাবে কথা বলতে পারিনি। বিষয়টিকে আপনারা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। এছাড়া সব ক্ষেত্রে আমাকে জড়ানোর বা ফোন দেয়ার কিছু নেই। প্রচার সম্পাদকসহ যারা দায়িত্বে রয়েছেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।’ বলছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন।
গতকাল সোমবার (৭ মার্চ) রাতে এফডিসিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
এর আগে অনেক নাটকীয়তার পর গত শুক্রবার বাংলাদেশ শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শপথ পড়ান সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, ‘জায়েদ খান আমাকে আদালতের সার্টিফায়েড কপি দেখিয়েছে, তাই তাকে শপথ পাঠ করিয়েছি।’
ঘটনার তিন দিনের মাথায় সোমবার এসে সংবাদ সম্মেলন ডেকে জায়েদ খানের শপথ বাতিলের ঘোষণা দিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। অভিযোগ করে ইলিয়াস কাঞ্চন জানান, শপথ নেওয়ার জন্য জায়েদ খান ছলনার আশ্রয় নিয়েছিলেন। আদালতের যে কাগজ তিনি কাঞ্চনকে দেখিয়েছিলেন, সেটিও সঠিক নয়।
এদিন সন্ধ্যায় এফডিসির শিল্পী সমিতির সামনে সংবাদমাধ্যমের সামনে পুরো ঘটনা খোলাসা করেন ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি জানান, শুক্রবার শপথ গ্রহণের সময় আদালতের রায়ের ফটোকপি শিল্পী সমিতিতে জমা দেওয়ার কথা ছিল জায়েদ খানের। কিন্তু তিনি সেটি দেননি। নানা টালবাহানা করেছেন।
ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘ওইদিন শপথ শেষে আমি গেলাম মসজিদে নামাজ পড়তে, সেখান থেকে ফোন করে বললাম, কী হলো! তুমি আমাকে ফটোকপি দিচ্ছ না কেন? সে সেখানে গিয়ে বলল- আজকে তো শুক্রবার। ফটোকপি করাতে পারছি না। শনিবার সকালে আপনার অফিসে পাঠিয়ে দেব। আমি বললাম- মিস করবা না কিন্তু। তুমি কিন্তু অবশ্যই পাঠাবা।’
পরে ইলিয়াস কাঞ্চন যুক্ত করেন, ‘আজ আমি তাকে (জায়েদ খান) ফোন করে বললাম, তুমি আমাকে ফটোকপি দিচ্ছ না কেন। তখন সে এবং তার দুজন আইনজীবীসহ আমার অফিসে আসল…। ফটোকপি পাঠানোর পর আমি দেখলাম, আমাকে যে ফটোকপি দিল, যেটা আপনাদের অরিজিনাল সার্টিফিকেট হিসেবে শো করেছিল, সেটা ফেব্রুয়ারি মাসের ৯ তারিখের। ৯ তারিখে আরেকটা রায় যে হয়েছিল, সেটার সার্টিফায়েড কপি।’
ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘যেহেতু সত্যের বিপরীতে এবং ছলনার আশ্রয় নিয়েছে, শিল্পী সমিতির সভাপতিকে ধোঁকায় ফেলেছে, শিল্পী সমিতিকে ধোঁকায় ফেলেছে; সেহেতু জায়েদ সাহেবের যে শপথ নেওয়া, এটা কোনও ভাবেই আর গ্রহণযোগ্য নয়… যেহেতু অরিজিনাল সার্টিফিকেটের কপি দেয়নি, সেহেতু তার মিটিংয়েও অ্যাটেন্ড করা বৈধ নয়। এবং তার বৈধ না হওয়ার কারণে কোরামও পরিপূর্ণ হয়নি। সেদিনের মিটিংকে আমি ডিসমিস করলাম… সে বাদ দিয়ে বাকি যে চার জন, তাদের শপথ ঠিক আছে; কিন্তু জায়েদ সাহেবের শপথকে আমি গ্রহণ করলাম না।’
