সম্প্রতি ঘোষণা করা হয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২০-এর বিজয়ীদের নাম। এবারের আসরে শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে পুরস্কার পাচ্ছেন কবির বকুল। ‘বিশ্বসুন্দরী’ সিনেমায় ব্যবহৃত ‘তুই কি আমার হবি রে’ গানের জন্য তাকে বিজয়ী করা হয়েছে।
অন্যদিকে শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালকের পুরস্কার যাচ্ছে বেলাল খানের ঝুলিতে। ‘হৃদয় জুড়ে’ সিনেমার ‘বিশ্বাস যদি যায় রে ভেঙে’ গানের জন্য তাকে বাছাই করা হয়েছে।
এই দুটি পুরস্কার নিয়েই চলছে বিতর্কের ঝড়। কেননা ‘তুই কি আমার হবি রে’ গানের একটি লাইন হুবহু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘হঠাৎ দেখা’ কবিতার সঙ্গে মিলে যায়।
অন্যদিকে বেলাল খান যে গানটির জন্য পুরস্কৃত হচ্ছেন, সেই গানের সংগীত পরিচালনা করেছেন বলে দাবি তুলেছেন এম এ রহমান নামের এক সংগীত পরিচালক। এ নিয়ে তিনি তথ্য মন্ত্রণালয়ে আইনি নোটিশও পাঠিয়েছেন।
এসব বিতর্ক প্রসঙ্গে কথা হয় চিত্রনায়ক রিয়াজের সঙ্গে। তিনি এবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জুরি বোর্ডের সদস্য ছিলেন। তিনি বলেন, ‘জুরি বোর্ড জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দেয় না, কেবল সুপারিশ করে। সেই সুপারিশ সবসময় চূড়ান্ত বলে বিবেচিত না-ও হতে পারে। তাই জুরি বোর্ডের সুপারিশ যদি কেউ পরিবর্তন করে ফেলে, সেক্ষেত্রে আমাদের বলার কিছু থাকে না।’
যে দুটি গানের বিষয়ে বিতর্ক হচ্ছে, তাহলে সেই দুটি পুরস্কার জুরি বোর্ডের সুপারিশের বাইরে গিয়ে দেওয়া হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে রিয়াজ বলেন, ‘এটা আসলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলতে পারবেন। আমরা জুরি বোর্ড একটা নির্দিষ্ট নীতিমালার মধ্যে কাজ করি। আমরা গোপনীয়তা প্রকাশ করতে পারি না। জুরি বোর্ডের সদস্য হিসেবে কেবল এতটুকু বলতে পারি, আমাদের সুপারিশ আসলে শতভাগ রাখা হয় না। আমাদের ওপরেও কিছু বিষয় থাকে। কারণ আমরা পুরস্কার প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ নই।’
গানের মৌলিকতা নিয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের নীতিমালা সম্পর্কে জানতে চাইলে রিয়াজ বলেন, ‘অবশ্যই কোনো নকল গান পুরস্কার পেতে পারে না। আমরা খুব সতর্কতার সঙ্গে এ ব্যাপারটি বিবেচনা করি। জুরি বোর্ডের সুপারিশও সেভাবেই হয়। এখানে যারা থাকেন, তারা তো একেবারে গণ্ডমুর্খ থাকেন না। কিন্তু জুরি বোর্ডের সুপারিশ যদি পরিবর্তন হয়ে যায়, সেখানে তো আসলে বোর্ডের করার কিছু নেই। সুতরাং বিতর্কের দায় জুরি বোর্ডের ওপর বর্তায় না।’
