বাংলাদেশের অনুরোধে খায়রুজ্জামানকে গ্রেফতার: মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- মালয়েশিয়ার স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরী হামজা জয়নুদ্দিন জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার এম খায়রুজ্জামানকে সরকারের অনুরোধে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে হামজা জয়নুদ্দিন এসব তথ্য জানান।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনারকে আটকের এক দিন পর মালয়েশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করল। অবশ্য কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে কিছু জানায়নি।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন পুলিশ গতকাল বুধবার সকালে এম খায়রুজ্জামানকে সেলাঙ্গর প্রদেশের আমপাং এলাকা থেকে আটক করেছে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনারের দায়িত্ব পালন শেষে এক যুগের বেশি সময় ধরে দেশটিতে শরণার্থী হিসেবে রয়েছেন খায়রুজ্জামান।

খায়রুজ্জামানের আটকের বিষয়টি জানেন কি না, সংবাদ সম্মেলনে এমন এক প্রশ্নের উত্তরে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হামজা জয়নুদ্দিন বলেন, ‘আমি অবশ্যই তাঁর আটকের বিষয়টি সম্পর্কে জানি। বিধি মেনেই তাঁকে আটক করা হয়েছে।’

বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনারকে আটকের কারণ জানতে চাইলে হামজা জয়নুদ্দিন জানান, বাংলাদেশে সংঘটিত অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার জন্য তাঁকে (খায়রুজ্জামান) আটকের জন্য বাংলাদেশ অনুরোধ জানিয়েছিল।

১৯৭৫ সালের জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলায় জড়িত সন্দেহে সাবেক সেনা কর্মকর্তা খায়রুজ্জামান অভিযুক্ত ছিলেন।

১৯৭৫ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চাকরি পাওয়ার পরে তিনি মিসর, ফিলিপাইন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত ছিলেন।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে তাকে অবসরে পাঠানো এবং গ্রেফতার করা হয়।

২০০৩ সালে বিএনপি সরকারের আমলে তিনি চাকরিতে মহাপরিচালক হিসেবে পুনর্বহাল হন। পরের বছর নির্দোষ বলে আদালত রায় দেন। ২০০৫ সালে তিনি মিয়ানমারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত হন। পরে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মালয়েশিয়ায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত হন।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাকে ডেকে পাঠানো হলে তিনি বিপদ আঁচ করতে পেরে কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘ উদ্বাস্তু কার্ড সংগ্রহ করেন এবং ওই সময় থেকে তিনি মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন।

এদিকে গ্রেপ্তারের পর খায়রুজ্জামানের আইনজীবী অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *