অবশেষে মুখ খুললেন কাজী হায়াৎ

নাটকীয়তার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির এবারের নির্বাচন। সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে চলছে টানাটানি। এই পদে প্রথমে বিজয়ী হন জায়েদ খান। এরপর প্রতিদ্বন্দ্বী নিপুণ। শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কে হবেন, তা নির্ধারণ করতে বিষয়টি গড়িয়েছে হাইকোর্টে।

আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের শুনানি হবে। এর আগ পর্যন্ত শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জায়েদ খান কিংবা নিপুণ কেউই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

এফডিসি এবং ঢাকাই সিনেমার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন দেশবরেণ্য পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও অভিনেতা কাজী হায়াৎ।

সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘সিনেমায় একেবারে নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে। হাতেগোনা দু একজন মানুষ চেষ্টা করছেন সিনেমাটাকে কীভাবে বাঁচানো যায়! এরমধ্যে শিল্পী সমিতির নির্বাচনে যে গন্ডগোল লেগে আছে, এতে করে আর কেউই হলে যাবে না। যাদের নিজেদের মধ্যে এত সমস্যা তাদের ছবি কেন মানুষ পয়সা দিয়ে দেখবে?”

কিছুটা সংক্ষুব্ধ কাজী হায়াৎ বলেন, ‘সিনেমা হলে মানুষ নেই। কেন নেই, সেটা নিয়ে চলচ্চিত্রের বেশিরভাগই মানুষদের গবেষণা নেই, কোনো চিন্তা নেই। সবাই খালি নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত।’

শিল্পী সমিতির নির্বাচন প্রসঙ্গ টেনে কাজী হায়াৎ বলেন, এই নির্বাচনে নানামুখী কথাবার্তা চলছে। মনে হচ্ছে সারাদেশে এই নির্বাচন হচ্ছে। অথচ এর কোনো মানেই হয় না। খুব দুঃখজনক। কারণ, যতটুকু মানুষের হলে যাওয়ার ইচ্ছা থাকতো তাও চলে যাচ্ছে।

নির্বাচন ঘিরে দু-পক্ষের ‘অতিরিক্ত কাদা ছোড়াছুড়ি হচ্ছে’ উল্লেখ করে দেশের প্রখ্যাত এই চলচ্চিত্র নির্মাতা বলেন, শিল্পীদের এমন সব ন্যাক্কারজনক কথাবার্তা বেরিয়ে আসছে যা দর্শকেরা আগে জানতো না। ফলে দর্শকরা ওইসব শিল্পীদের ছবি আর দেখবে না৷ একেবারে হল বিমুখ হবে।

তিনি বলেন, ‘আমি সিনেমা হলে গিয়ে দেখেছি কিছু শিল্পী পর্দায় এলে মানুষ তাদের দারুণভাবে ধিক্কার জানায়। এমনকি তাদের পরিবার তুলে গালমন্দ করে। কেন ওই সিনেমার পরিচালক প্রযোজকরা এসব শিল্পী নিয়েছে এজন্য তাদেরও গালাগাল শুনতে হয়। কাজেই এসব গন্ডগোল ঝামেলা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *