আন্তর্জাতিক ডেস্ক- ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্নাটকে সম্প্রতি শুরু হওয়া হিজাব বিতর্ক ও তা থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানী বেঙ্গালুরুর স্কুল কলেজে ২ সপ্তাহের জন্য প্রতিবাদ-বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে রাজ্য পুলিশ।
বেঙ্গালুরু পুলিশের বরাত দিয়ে বুধবার এক প্রতিবেদনে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহ রাজধানীর প্রত্যেক স্কুল-কলেজের ২০০ মিটারের মধ্যে কোনো বিক্ষোভ-প্রতিবাদ সমাবেশ হলে আইনি ব্যবস্থা নেবে পুলিশ প্রশাসন।
এর আগে হিজাব নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়া উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার মঙ্গলবার তিন দিনের জন্য স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে।
বেঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনার কমল পান্ত বুধবার ১৪৪ ধারা ঘোষণা করে বলেন, ‘শহরে উত্তেজনা রয়েছে। নতুন করে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। তাই শান্তি বজায় রাখার জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা দরকার। এই পরিস্থিতিতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে স্কুল-কলেজের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।’
তিনি জানান, শুক্রবার স্কুল-কলেজ খোলার পর রাজধানীতে ১৪৪ ধারা কার্যকর হবে। ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বেঙ্গালুরুর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ২০০ মিটারের মধ্যে কোনো রকম জমায়েত বা বিক্ষোভ করা চলবে না।
এদিকে বুধবার কর্ণাটকের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব পরা নিয়ে হাইকোর্ট কী রায় দেয় সেদিকে তাকিয়ে ছিল দেশটির রাজ্য সরকার। বিচারপতি কৃষ্ণা দীক্ষিত উদুপিতে হিজাব-নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলাগুলো পরবর্তী শুনানির জন্য উচ্চতর বেঞ্চে পাঠিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত মাসে (জানুয়ারি) ভারতের কর্ণাটকের উদুপি জেলায় এক সরকারি কলেজের কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম-সংক্রান্ত কিছু বিধি জারির পরই রাজ্যজুড়ে হিজাব বিতর্ক শুরু হয়। নতুন বিধিতে বলা হয়, হিজাব পরে ক্লাস করা যাবে না। হিজাবকে বৈষম্য সৃষ্টিকারী বলে উল্লেখ করা হয়।
কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী, ছাত্রীরা ‘স্কার্ফ’ পরতে পারবে। তবে তার রং হতে হবে ওড়নার রঙের সঙ্গে মানানসই। ৬ শিক্ষার্থী তখন অভিযোগ করেন, হিজাব পরতে চাওয়ায় তাদের ক্লাস করতে দেওয়া হয়নি। এ নিয়মের প্রতিবাদে মুসলমান শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানান। স্থানীয় কট্টরপন্থী হিন্দু সংগঠনগুলো এর বিরোধিতা করলেও দলিত হিন্দুদের অনেকে মুসলিম শিক্ষার্থীদের সমর্থন জানিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন।
এ নিয়ে কয়েক দিন ধরেই কর্নাটকের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে হিজাব নিষিদ্ধ করার দাবিতে গেরুয়া উত্তরীয় পরে বিক্ষোভ করেছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো। পাল্টা হিজাবের সমর্থনে পথে নেমেছে মুসলিম শিক্ষার্থীরা।
