ইভ্যালির সার্ভার চালু করতে ৬ কোটি টাকা চায় অ্যামাজন!

ইভ্যালির সার্ভার দেখভালের দায়িত্বে ছিল বিদেশি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন। বর্তমানে সার্ভার বন্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া পাওনা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি টাকা। এই ৬ কোটি টাকা দেওয়া না হলে সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ইভ্যালি বিষয়ে হাইকোর্ট নির্দেশিত বোর্ডের চেয়ারম্যান সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।

ইভ্যালির ধানমন্ডি অফিসের দুটি লকারের পাসওয়ার্ড না পেয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আজ ধানমন্ডিতে ইভ্যালির কার্যালয়ের লকার দুটি ভাঙা হয়। কিন্তু অনেকগুলো চেক মিলেও মোটা অংকের টাকা মেলেনি।

লকার ভাঙা শেষে বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘ইভ্যালির সার্ভার বন্ধ। এটি পরিচালনা করত অ্যামাজন। সার্ভার চালু করতে চাইলে অ্যামাজন আমাদের কাছে ৬ কোটি টাকা দাবি করেছে। তবে সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নিতে আমরা অ্যামাজনের সঙ্গে দরকষাকষি করছি। গত তিন মাস ধরে আমরা চেষ্টা চালিয়ে আসছি। ‘

‘এছাড়া বিকল্প উপায়েও আমরা চেষ্টা চালিয়ে আসছি সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য। যে পরিমাণ টাকা দেওয়া হোক না কেন, পুরো টাকাটা ইভ্যালির অ্যাকাউন্ট থেকেই দেওয়া হবে। সার্ভার নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারলে গ্রাহকের কিংবা মালামালের কোনও তথ্যই আমরা পাবো না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সার্ভার থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে আমরা বুঝতে পারবো ইভ্যালির কাছে গ্রাহকদের পাওনার বিষয়ে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক বিষয়গুলো অডিটের মাধ্যমে জানতে পারবো। প্রতিষ্ঠানটির কাগজপত্র বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। অডিটর নিয়োগ হলে সেসব কাগজপত্র একত্র করে প্রতিষ্ঠানটির সম্পত্তির বিষয়ে জানা সম্ভব হবে।’

এ সময় বোর্ড সদস্য অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলন বলেন, সম্প্রতি তারা যোগাযোগে সাড়া দিয়েছে। আমরা আইনগত দিকটি বুঝিয়ে সার্ভারের একসেস চেয়েছি। তবে তারা বোর্ডের সত্যতা ইউএস অ্যাম্বাসির মাধ্যমে নিশ্চিত করে জানাতে বলেছেন। তারপর ইউএস অ্যাম্বাসি সার্টিফাই করলে তারা সেটি দেখবে। তখন আমরা সিঙ্গাপুরের অ্যামাজনে যোগাযোগ করতে পারব। এটা ভালো খবর।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বোর্ডের সদস্য অবসরপ্রাপ্ত অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি রেজাউল আহসান, আইনজীবী ব্যারিস্টার খান মো. শামীম আজিজ, অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলন, এফসিএ অ্যান্ড এফসিএমএর সাবেক চিপ চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট ফখরুদ্দিন আহমেদ, ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসফিয়া সিরাত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *