নজর২৪ ডেস্ক- নগর পরিবহনের বাসের ফ্যানগুলো রাতের বেলায় বিশ্রাম পেলেও দিনের বেলায় শব্দ করে চলছে শীতের এই সময়েও। এর কারণ পৌষ শেষে ‘বাঘ কাঁপার’ মাঘ আসি আসি করছে, কিন্তু ঢাকায় হাড় কাঁপানো শীতের দেখা নেই। বরং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় এই বোধ হতেই পারে এটা বুঝি গ্রীষ্ম।
অথচ এই সময়ে নিত্যদিন হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে দেশের বেশির ভাগ এলাকা। প্রতিদিন তাপমাত্রা পাল্লা দিয়ে কমতে থাকে। আর চার দিন ধরে ঘটছে তার উল্টো ঘটনা। রাতেও শীত কম।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ বলছে, গত শনিবারের তুলনায় গতকাল রোববার মধ্যরাত থেকে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে গেছে। আর উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বেশির ভাগ এলাকায় আজ সোমবার সকাল থেকে দিনের তাপমাত্রা একলাফে ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, আজ দিন যত গড়াবে, রোদের তাপ তত বাড়বে। কারণ, ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে আসা মেঘের দল উত্তরাঞ্চল দিয়ে দেশের সীমানায় প্রবেশ করেছে। ওই পথ দিয়ে শীতের হিমেল বাতাস এত দিন দেশে প্রবেশ করছিল। মেঘ এসে ওই পথে বাধার প্রাচীর তৈরি করেছে। ফলে শীতের ঠান্ডা বাতাস দেশের ভেতরে প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে তাপমাত্রা দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। তবে আজ রাত থেকে মেঘ দেশের বেশির ভাগ এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। কাল মঙ্গলবার মেঘের ওপরে মেঘ জমে দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা ও ঝিরঝিরে বৃষ্টি ঝরাতে পারে।
এ ব্যাপারে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, কাল থেকে দেশের বেশির ভাগ এলাকায় মেঘ এসে পড়বে। এতে দিনে রোদের দাপট কমে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তবে বৃষ্টি চলে এলে কিছুটা ঠান্ডা বাতাসও এর সঙ্গে যোগ দেবে। ফলে মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত ঠান্ডার অনুভূতি বেড়ে যেতে পারে।
গতকালের মতো আজও রাজধানীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি ছিল, যা গত ৫ বছরের ডিসেম্বরের ১০ তারিখ পর্যন্ত সময়কালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
তবে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা মাপা হয় বেলা তিনটায়। ফলে ওই সময়ে তাপমাত্রা মেপে বলা যাবে, তা গতকালের তুলনায় বেশি না কম হবে। গতকাল ৪৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা ছিল।
আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল শ্রীমঙ্গলে, ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একদিন আগে রোববার পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
