নজর২৪, চাঁদপুর: যুগের পর যুগ এমন বিস্ময়কর ঘটনা ঘটছে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে। সেখানকার বেশির ভাগ নারী দেশ স্বাধীনের পর কোনো নির্বাচনেই ভোট দেননি। তাদের ধারণা, পীরের আদেশ অমান্য করলে এলাকায় ভয়ঙ্কর বিপদ নেমে আসবে।
প্রায় পাঁচ দশক আগের কথা। কলেরা মহামারি ছড়িয়ে পড়েছে পুরো ইউনিয়নে। গ্রামবাসীর আয়োজন করা দোয়া মাহফিলে পির মওদুদ হাসান জৈনপুরী আদেশ দেন, ইউনিয়নের সব নারীকে কঠোর পর্দা করতে হবে। আর তাহলেই দূর হবে কলেরা।
স্থানীয়রা বলছেন, তাদের ধারণা, পীরের আদেশ অমান্য করে নারীরা ভোট দিতে গেলে এলাকায় আবার কোনো বিপদ নেমে আসবে। তাই ভোটের দিন বেশির ভাগ নারী বাড়িতেই থাকেন, ইদানীং হাতে গোনা কয়েকজন যান ভোটকেন্দ্রে। তবে ভোট না দিলেও বাড়ির বাইরের বাকি সব কাজই করছেন নারীরা। এমনকি নির্বাচনেও প্রার্থী হচ্ছেন। এরপর কেটে গেছে প্রায় ৫০ বছর।
আর পীরের এই ‘আদেশ’ মেনে ভোট দিতে না যাওয়া চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের সেই নারীদের নিয়ে এবার আলোচনা সভা করেছে প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শনিবার দুপুরে রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত কলেজ মিলনায়তনে এই সভা হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, নারীরা ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকলে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে। অযোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত হলে ধর্মীয়ভাবে নারীরাও এর দায় এড়াতে পারেন না। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে তাদের ভোট দিতে হবে।
আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি কোনো আলেম নারীদের ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দেবেন না। পর্দা রক্ষা করে নারীদের ভোট দেয়া ধর্মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিউলি হরির সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদ হোসেন, ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান।
সভায় কোরআন ও হাদিসের আলোকে নারীদের ভোট দেয়ার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা কমপ্লেক্স জামে মসজিদের খতিব মাওলানা ইউনুস হোসেন।
