সিনেমা আগের জায়গায় আসবে, ইনশাআল্লাহ: ডিপজল

বিনোদন ডেস্ক- নায়ক হিসেবেই চলচ্চিত্রে আবির্ভাব তার। পরবর্তীতে খল অভিনেতা হিসেবে অভিনয় করে পেয়েছিলেন ‘ডেঞ্জার ম্যান’ স্বীকৃতি। এরপর চলচ্চিত্রে অশ্লীলতার সময়ে পারিবারিক গল্পের সিনেমা প্রযোজনার পাশাপাশি নিজের অভিনয়ের ধরন বদলে দর্শকের মণিকোঠায় জায়গা করে নেন তিনি। তিনি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ‘মুভিলর্ড খ্যাত’ মনোয়ার হোসেন ডিপজল।

 

শনিবার (১ জানুয়ারি) মনতাজুর রহমান আকবরের পরিচালনায় ‘জিম্মি’ নামে একটি ওয়েব সিরিজের শুটিং শুরু করেছেন তিনি। সাভারে তার শুটিং বাড়িতে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন ডিপজল।

 

এই অভিনেতা বলেন, ‘আমি চলচ্চিত্রের মানুষ। চলচ্চিত্রই আমার ধ্যানজ্ঞান। এর বাইরে অন্যকিছু ভাবি না। তবে প্রযুক্তিকেও অস্বীকার করা যায় না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্মাতারা ওয়েব সিরিজ নির্মাণ করে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি দিচ্ছেন। আমরাও পিছিয়ে থাকতে পারি না। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদেরও চলতে হবে। আমরাও যে বিশ্বমানের ওয়েব সিরিজ নির্মাণ করতে পারি, তা দেখাতে চাই।’

 

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন মনোয়ার হোসেন ডিপজল। এরই মধ্যে বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। খুব শিগগিরই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনে নিজের প্রার্থী হওয়ার বিষয় তিনি বলেন, ‘আমার নির্বাচন করার ইচ্ছা নাই। তারপরও আমাকে ছাড়ছে না। হয়তো সহ-সভাপতি বা যেকোনো একটি পদে নির্বাচন করতে পারি।’

 

সভাপতি পদে কেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না? এমন প্রশ্নের জবাবে ডিপজল বলেন, ‘সভাপতি পদে নির্বাচন করার মতো সময় নাই; নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকি।’

 

আগামী নির্বাচনে প্যানেল বদলের কোনো সম্ভাবনা আছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি দল বদল করার লোক না। নির্বাচন করলে মিশা সওদাগর-জায়েদ খানের প্যানেল থেকেই করবো। কারণ তারা যেভাবে গরীবের পাশে থেকেছে, আমার মনে হয় শতভাগ করেছে।’

 

নতুন বছরের প্রত্যাশা জানিয়ে ডিপজল বলেন, ‘কোনো কিছু অগ্রিম বলা ঠিক না। কথা দিয়ে যদি কথা রাখতে না পারি তখন বিষয়টা ভালো দেখায় না। বছরের প্রথম দিন ওয়েব সিরিজ শুরু করলাম। ভালো কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাকি সব আল্লাহর উপর।’

 

দর্শক প্রেক্ষাগৃহে ফেরাতে ভারতীয় সিনেমার বিপক্ষে মত দিয়েছেন ডিপজল। তিনি বলেন, ‘ভারতের সিনেমা দেশে আসার পর আমাদের বাংলা সিনেমায় সবচেয়ে বড় ধস নামে। ভারতীয় সংস্কৃতি ও বাংলাদেশি সংস্কৃতি আকাশ-পাতাল ব্যবধান। সিনেমার চিন্তা না, তারা দেশকে ধ্বংস করার চিন্তা করছেন। ভারতীয় সিনেমা বাংলাদেশের যেসব মানুষ বয়কট করছেন তাদের ধন্যবাদ জানাই। সবাই মিলে আবার চেষ্টা করলে আমাদের সিনেমা আগের জায়গায় আসবে, ইনশাআল্লাহ।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *