Home প্রধান খবর জাপানি দুই শিশু আপাতত মায়ের কাছে থাকবে

জাপানি দুই শিশু আপাতত মায়ের কাছে থাকবে

0
138

নজর২৪, ঢাকা- জাপানি দুই শিশুকে ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত মা এরিকো নাকানোর কাছে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ। তবে আদালত বলেছে, শিশুদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাবেন তাদের বাবা ইমরান শরীফ।

 

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) এ নির্দেশ দেয়।

 

আদালত বলেছে, শিশু দুটি ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত থাকবে মায়ের কাছে। আর বাবা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত স্বাধীনভাবে সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন। সন্তানদের স্কুলে যাওয়া এবং পড়াশোনা চলবে। আদালতের অনুমতি ছাড়া সন্তানদের নিয়ে দেশের বাইরে যাওয়া যাবে না।

 

আদালতে মায়ের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন আহসানুল করিম ও শিশির মনির। আর বাবার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ফাওজিয়া কবির।

 

গত ৫ ডিসেম্বর দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনাকে নিজের জিম্মায় নিতে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন জাপানি মা নাকানো এরিকো।

 

এর আগে, ২১ নভেম্বর জাপানি দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা বাংলাদেশে তাদের বাবা ইমরান শরীফের কাছে থাকবে বলে রায় দেন হাইকোর্ট।

 

রায়ে বলা হয়, জাপান থেকে এসে মা বছরে তিনবার ১০ দিন করে দুই সন্তানের সঙ্গে একান্তে সময় কাটাতে পারবেন। জাপানি মায়ের আসা-যাওয়া ও থাকা-খাওয়ার সব খরচ বাবা ইমরান শরীফকে বহন করতে হবে। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

 

রায়ে আদালত বলেন, রিটটি চলমান থাকবে। দুই মেয়ে বাবা ইমরান শরীফের হেফাজতে থাকবে। মা দেখা-সাক্ষাৎ এবং একান্তে সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন। যেহেতু মা জাপানি নাগরিক, সেখানে থাকেন এবং কাজ করেন, তাই তিনি নিজের সুবিধা মতো সময়ে বাংলাদেশে এসে সন্তানদের সঙ্গে প্রতিবার কমপক্ষে ১০ দিন করে সময় কাটাতে পারবেন।

 

এ ক্ষেত্রে বছরে তিনবার বাংলাদেশে যাওয়া-আসাসহ ১০ দিন অবস্থানের যাবতীয় খরচ বাবা ইমরান শরীফকে বহন করতে হবে। এর বাইরে আসা-যাওয়ার খরচ মা বহন করবেন। ছুটির দিনে অন্তত দুইবার বাবা সন্তানদের মায়ের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেবেন।

 

এছাড়া আদালত নির্দেশনা দেন, গত কয়েকমাস বাংলাদেশে অবস্থান ও যাতায়াত খরচ বাবদ শিশুদের মা নাকানো এরিকোকে ১০ লাখ টাকা দেবেন বাবা ইমরান শরীফ। রায় ঘোষণার সাত দিনের মধ্যে তাকে এ অর্থ দিতে হবে। রিটটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদেশ প্রতিপালিত না হলে বা অন্য কোনো আদেশের জন্য আদালতে উভয়পক্ষ আসতে পারবে। সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কর্মকর্তা শিশুদের দেখভাল অব্যাহত রাখবেন। প্রতি তিন মাস অন্তর শিশুদের বিষয়ে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে প্রতিবেদন দিতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here