স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক- সেই জুলাই মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট খেলে সতীর্থদের কাছ থেকে গার্ড অব অনার নিয়ে বিদায় নিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু তার অবসর এতদিন ধরে ছিল এক রহস্যের নাম।
অবসর নিয়ে গণমাধ্যমে তিনি নিজে কোন ঘোষণা দেননি, বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসানও স্পষ্ট করছিলেন না কিছু। অবশেষে আরেকটি টেস্টে নামার আগে বিসিবি জানাল, অবসরে গিয়েছেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার।
বুধবার সন্ধ্যায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে বিসিবি জানায়, ৩৫ বছর বয়েসী মাহমুদউল্লাহ জিম্বাবুয়ের হারারেতে খেলেছেন নিজের শেষ টেস্ট, যেটি ছিল তার ক্যারিয়ারের ৫০তম টেস্টও।
এক বিবৃতিতে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বলেন, আমি অনেকদিন ধরেই খেলেছি এমন একটা ফরম্যাটকে বিদায় বলা সহজ নয়। সবসময়ই আমি সর্বোচ্চ জায়গায় পৌঁছাতে চেয়েছি। আমার বিশ্বাস টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ করার এটাই সঠিক সময়।
বিবৃতিতে তিনি বিসিবি সভাপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এছাড়া মাহমুদউল্লাহ সতীর্থ ও সাপোর্ট স্টাফদেরও ধন্যবাদ জানান।
২০০৯ সালে কিংস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে অভিষেক হয় রিয়াদের। বাংলাদেশের হয়ে মোট ৫০টি টেস্ট খেলেছেন রিয়াদ। যেখানে ৩৩র বেশি অ্যাভারেজ নিয়ে রান করেছেন ২ হাজার ৯১৪। ৫টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি আছে ১৬টি অর্ধশতকও। ১২ বছরের ক্যারিয়ারে অনেক উত্থান-পতন ছিল।
শ্রীলঙ্কায় গিয়েও শততম টেস্টের আগে দল থেকে বাদ পড়ায় দেশে ফিরে আসতে হয়েছিল। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ টেস্টে ক্যারিয়ার সেরা ১৫০ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজের শেষ টেস্টে দলের বিপদের সময় এই রান করেন রিয়াদ।
বল হাতেও কম যাননি রিয়াদ। ৫০ ম্যাচ খেললেও মোট ৬৬ ইনিংসে হাত ঘোরান এ অলরাউন্ডার। যেখানে তিনি উইকেট নিয়েছেন ৪৩টি। তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার ৫১ রান দিয়ে ৫ উইকেট যেটি অভিষেক টেস্টেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই। ম্যাচটি জিতেছিল বাংলাদেশ। বিদেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পাইয়ে দেয়া ম্যাচে বড় অবদান ছিল ’আনসাং হিরো’র।
