বিনোদন ডেস্ক- শাবনাজ-নাঈম ও সালমান শাহ-শাবনূরের ছবি দেখে নিজেকে সিনেমার নায়িকা হিসেবে স্বপ্ন দেখতেন মুনমুন। বাস্তবে একটা সময় তিনিও নায়িকা হয়েছেন। তবে ভাগ্যটা যেন তাঁর সুপ্রসন্ন হয়নি। ছবিতে অভিনয় করেছেন ঠিকই, ব্যবসায়িক সফলতাও পেয়েছে তাঁর অভিনীত ছবিগুলো, কিন্তু দর্শকের কাছে তাঁর ভাবমূর্তি নেতিবাচক।
সেই সময় সুপারস্টার মান্না, ওমরসানী, অমিত হাসান, শাকিব খান, আমিন খান, আলেকজান্ডার বো’র সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন। কিন্তু নিজেকে শীর্ষ নায়িকাদের কাতারে নিতে পারেননি।
দীর্ঘদিন পর মুনমুন সম্প্রতি বাবুল রেজা পরিচালিত ‘বউ জামাইয়ের লড়াই’ সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিলেন। সব মিলিয়ে কেমন আছেন? জানতে চাইলে এ নায়িকা বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। সুস্থ আছি।
বর্তমান ব্যস্ততা কি নিয়ে? মুনমুন বলেন, দীর্ঘদিন পর সাভারের ফুলবাড়িয়ায় ডিপজল ভাইয়ের ফাহিম স্টুডিওতে সিনেমার শুটিং করছি।
অনেকটা স্মৃতিকাতর কণ্ঠে তিনি বললেন, ডিপজল ভাইয়ের স্টুডিওতে একটা সময় আমার অনেক ছবির শুটিং হয়েছে। এমনও হতো মাসের ৩০ দিনই ভিন্ন ভিন্ন প্রডাশনের ছবির আউটডোর শুটিং এখানেই হতো। ‘রাণী কেন ডাকাত’ আমার হিট সিনেমা ছিল। এর শুটিংয়ের কথা আজও মনে পড়ছে।
দর্শকরা তো ভাবেন সিনেমা থেকে আপনি বিদায় নিয়েছেন। এটা কি জানেন? এ নায়িকা বলেন, সিনেমা হচ্ছে আমার প্রাণের জায়গা। আমার অক্সিজেন। এই চলচ্চিত্র আমাকে পরিচিতি, সুনাম, অর্থ, যশ সব দিয়েছে। আমিতো ভাবতেই পারি না এই বিষয়টা।
আপনি নাকি এখন ‘টিকটক-এর নায়িকা? সোশ্যাল মিডিয়ার এই ‘টিকটক’ এ আপনি খুব অ্যাকটিভ? মুনমুন হাসতে হাসতে বলেন, এ আর কী! নতুন প্রজন্মের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখা। প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় হওয়া। এর বেশি কিছু না।
এই প্রযুক্তি কিন্তু আপনাকে বিপদে ফেলে দিয়েছিল একবার। নাকি? উত্তরে তিনি বলেন, ঐ কথা আর মনে করতে চাই না। কি যে ভোগান্তি! বলে বোঝানো যাবে না। আমি ব্যক্তি জীবনে খুবই সাধারণ জীবন যাপন করি। খুব সহজে সবাইকে বিশ্বাস করি। এই বিশ্বাস শব্দটাই কখনো কখনো আমার জীবনে অস্বস্তি হয়ে ফিরে আসে। আর তখনই যতো উটকো ঝামেলার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
আপনার নামের সঙ্গে অ শ্লী ল শব্দটা কোনো না কোনোভাবে জুড়ে আছে। এর কারণ কী? মুনমুন এ প্রসঙ্গে বলেন, আমার অভিনয় চলাকালীনই চলচ্চিত্রে হঠাৎ অ শ্লী ল তার জোয়ার শুরু হয়। দেখা গেছে- আমার অভিনীত সিনেমায় অখ্যাত কোনো অভিনেত্রীর কাটপিস সংযোজন করে দেয়া হতো। দর্শকতো ভাবতো আমি ঐ দৃশ্যে অংশ নিয়েছি।
এমনও হয়েছে সেন্সর সার্টিফিকেট পাওয়ার পরও হলে ঐসব সেন্সরবিহীন দৃশ্যগুলো সংযোজন করে প্রদর্শন হতো। দর্শকতো সিনেমায় এতো টেকনিক্যাল বিষয়ে অবগত নয়। এই টেকনিক্যাল বিষয়গুলো পর্দায় প্রদর্শন করায় আমার নামের আগে অ শ্লী ল শব্দটা বসানো হয়েছে। আমি যদি অ শ্লী ল নায়িকাই হতাম তাহলে কি বিখ্যাত পরিচালকরা আমাকে তাদের সিনেমায় সুযোগ দিতেন!
