এবার পুলিশকেই ই.য়া.বা দিয়ে ফাঁ’সিয়ে দিলো মাছ ব্যবসায়ী বাবলা!

নজর২৪ ডেস্ক- চট্টগ্রামের লালখানবাজারের মাছ ব্যবসায়ী বাবলা দাশ। শুরু দিকে ব্যবসা ভালোই চলছিল তার। হঠাৎ করেই ব্যবসা থেকে মনোযোগ সরে আসায় ক্ষতি নেমে আসে। ঋণের দারস্থও হন তিনি। কিন্তু তাতেও ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারেননি তিনি, বরং ঋণের বোঝা বাড়তে থাকে।

 

আড়তদাররাও সিদ্ধান্ত নেয়, নগদ টাকা ছাড়া বাবলা দাশকে কেউই মাছ দেবে না। এ সিদ্ধান্তের পর অভিনব এক নাটক সাজান বাবলা দাশ। তার সাজানো গল্পেই ফেঁসে যেতে বসে কোতোয়ালি থানা পুলিশ!

 

ঋণভারে জর্জরিত যুবক বাবলা দাশ ‘পুলিশের টাকা ছিনতাই ও ইয়াবা’ ফাঁসানোর গল্প সাজায়। পরে তদন্ত শুরু হলে দেখা যায়, বাবলা দাশ অসত্য বলেছেন। ভুয়া গল্প সাজিয়ে পুলিশকে ফাঁসিয়ে নিজেই আড়তদারের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি পুলিশের ঘাড়ে চাপাতে চেয়েছিলেন।কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন এ গল্প গত ১১ অক্টোবর ফেসবুকে শেয়ার করেন-

 

পুলিশ যেভাবে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসায়!

 

মাছ বেচে ফিসারিঘাট যাচ্ছিল বাবলা। পথেই তার গতিরোধ করে পুলিশ। তল্লাশি চালায় এবং একপর্যায়ে গাড়িতে তোলে। গাড়িতে তুলে কিছুক্ষণ ঘোরানোর পর নির্জন এক জায়গায় তাকে নামায়। এরপর তার পকেটে ইয়াবা গুঁজে দিয়ে বলে ইয়াবা ব্যবসায়ী! ইয়াবাসহ তার কিছু ছবিও তুলে রাখে সেই পুলিশ সদস্যরা! এরপর বাবলার কাছে থাকা এক লাখ ১৩ হাজার টাকা তারা নিয়ে নেন! বাবলাকে হুমকি দেন, যদি এই টাকার বিষয়ে কাউকে বলে, তাহলে তাকে এসব ছবি দিয়ে মামলা দিয়ে দেবে! টাকা ‘হারিয়ে’ বাসায় চলে আসে বাবলা।

 

পুলিশ যেভাবে ফেঁসে যায়!

 

বাবলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ জানায় তার আড়তদার। কারণ, ‘আত্মসাতকৃত’ সেই টাকাগুলো আড়তদারের পাওনা পরিশোধের জন্যই যাচ্ছিল। অভিযোগ গুরুতর। পাশাপাশি পুলিশবিরোধী সেন্টিমেন্টের ‘পিক আওয়ার’ চলছে। তাই সঙ্গে সঙ্গেই তদন্ত শুরু করি।

 

যদিও শতভাগ বিশ্বাস ছিল, ‘টিম কোতোয়ালি’ এটা কখনোই করবে না। কিন্তু বাবলার আত্মবিশ্বাস ছিল আমার বিশ্বাসের চেয়েও বেশি। তাই কিছুটা কনফিউজড ছিলাম। সিনিয়র স্যারদের লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদে বাবলা তার কথায় অনড় থাকে। তাকে সিসিটিভি ফুটেজের কথা বললে সে বলে, ‘স্যার, সেটা দেখলেই প্রমাণ পাবেন আমার অভিযোগের!’

 

উপায়ন্ত না দেখে তাৎক্ষণিকভাবেই তার সামনেই আনা হয় সিসিটিভি ফুটেজ। প্রতি মোড়ের প্রতিটাক্ষণ যাচাই করা হয়। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী তাকে যেখান থেকে পুলিশ গাড়িতে ‘তুলে’ সেখানে তাকে দেখা গেল না! যেখানে তাকে ‘ঘোরানো ‘ অভিযোগ করেছিল সেখানে আমাদের গাড়ি যায়নি! আবার যেখানে তাকে ‘নামিয়ে’ দেয়ার কথা বললো, সেখানেও তার অস্তিত্ব নেই!

 

এসব দেখার পরই শুরু হয় তার অসংলগ্ন কথাবার্তা। এরপর আবারো তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। একপর্যায়ে সে স্বীকার করে তার সব অভিযোগই মিথ্যা! মূলত আইপিএল-এ বাজি ধরে সে সব টাকা খুঁইয়েছে। টাকা না দিলে মাছ পাবে না- তাই ‘পুলিশ টাকা নিয়ে নিয়েছে’ বলে উদ্ধার পেতে চেয়েছিল বাবলা। তার দাবি, এই অভিযোগ সবাই বিশ্বাস করবে। তাই এমন অভিযোগই সে করেছে।

 

এই সত্য উদ্‌ঘাটনের পর যখন ঘুমাতে যাব, তখন ভাবছি, যদি এই সত্য বের না হতো তাহলে কি হতো? ‘ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ব্যবসায়ীর টাকা আত্মসাৎ’ সংবাদের শিরোনাম হতাম আমরা। আমার অফিসার ক্লোজড হতেন। আমিও…..।

 

আল্লাহ, সহায় ছিলেন। তাই বেঁচে গেলাম। চোরের দশদিনের পর আজ আসলে আমাদের গেরস্থেরই দিন ছিল। ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে গেল বাবলা।

 

ইসতিয়াক আহমেদ নাগবাড়ি এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে। মামলার বাদী ও ইসতিয়াক আহমেদের প্রেমিকা পার্শ্ববর্তী বাবুরাইল তাঁতীপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

 

মামলায় ওই তরুণী অভিযোগ করেন, গত চার বছর আগে ইসতিয়াকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর বিভিন্ন সময় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ইসতিয়াক তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করে। বিয়ের আশ্বাস ও প্রলোভনের এক পর্যায়ে নাগবাড়ি মন্দির সংলগ্ন জিকু মিয়ার বাড়ির তিন তলায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে ধর্ষণ করতে থাকে। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ২৫ ডিসেম্বরও ওই ফ্ল্যাটে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে ইসতিয়াক। এরপর থেকে বিয়ের ব্যাপারে কথা বললে ইসতিয়াক নানাভাবে টালবাহানা শুরু করে এবং বিয়ে না করার পাঁয়তারা করতে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *