নজর২৪ ডেস্ক- সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া। যার আধিপত্য ছিল বন্দরবাজার এলাকাজুড়ে। গায়ের জোরেই চালাতেন ফাঁড়ি। প্রতিদিনই টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে সালিশ বসাতেন ফাঁড়িতেই। সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় নাটক করে হিরো বনে যাওয়া এসআই আকবর এখন ভিলেনে পরিণত হয়েছেন।
বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি ছিল আকবরের কাছে থানার মতোই। ইনচার্জ হয়েও তার ভাব ছিল থানার ওসির মতোই। পান থেকে চুন খসলেই ফাঁড়ির টর্চার সেলে নির্যাতন করা হতো। সেই কক্ষকে বলা হতো ‘আকবরের ভিআইপি’ রুম। এই ভিআইপি রুমে (টর্চার সেল) সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বন্দরবাজার এলাকার হকাররা। সবকিছু ছাপিয়ে সবার মনে এখন একই প্রশ্ন, আকবর হোসেন ভূঁইয়া কোথায়?
সিলেট মহানগর পুলিশের লাপাত্তা এই অফিসারের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না কোথাও। রায়হান হত্যা ঘটনায় অভিযোগের অগ্রভাগে থাকা বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আকবর পালিয়েছেন বলে খবর রটেছে।
পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে তার জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। আকবর আর তার পরিবারের ব্যাপারে মুখ খুলতে শুরু করেছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, চাকরিতে যোগদানের পর এখন অঢেল সম্পদের মালিক আকবর। তার পরিবার নিয়েও আছে নানা বিতর্ক। যদিও স্থানীয়দের অভিযোগ মানতে নারাজ আকবরের স্বজনরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জের বগাইড় গ্রামে বরখাস্ত হওয়া এসআই আকবর হোসেনের একটি আলিশান বাড়ি রয়েছে। পুলিশে যোগদানের পরই যেন আলাদিনের চেরাগ পেয়ে যান তিনি। অল্প দিনেই নিজ গ্রামে গড়ে তোলেন প্রচুর সম্পদ-সম্পত্তি।
সিলেটে পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় আকবরের সংশ্লিষ্টতার খবর এরই মধ্যে ছড়িয়েছে তার এলাকায়। এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। স্থানীয়রা জানান, আকবরের পুরো পরিবার এলাকায় বিতর্কিত। তার বাবা ধর্ষণ মামলার আসামি ছিলেন। কারাগারেও ছিলেন একমাস।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক যুবক বলেন, আকবরের বাবা স্কুলশিক্ষক ছিলেন। শিক্ষকতায় থাকাকালীন তিনি এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। পরে ওই ঘটনা নিয়ে মামলা হয়েছিল। সেই মামলায় তাকে সাজাও দেওয়া হয়েছিল।
একজন আইনের সেবক হয়ে আকবরের এমন কাণ্ডে হতবাক স্থানীয় আওয়ামী লীগ। বিষয়টি দুঃখজনক বলছেন নেতারা। সুষ্ঠু তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, আমরা আশুগঞ্জবাসী লজ্জিত। এটি একটি ন্যাক্কারজনক এবং দুঃখজনক ঘটনা। এ ধরনের ঘটনা যেন পুনরায় না ঘটে তাই সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে, আকবরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বিশ্বাস করছে না তার পরিবার। তাদেরও দাবি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। আকবরের ভাই বলেন, আমার ভাই এ ধরনের কাজ কখনও করতে পারেন না। আমি চাই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। আমরা নিউজের মাধ্যমে এ ঘটনা জানতে পেরেছি। কিন্তু কোনো সত্যতা পাইনি। আমার ভাই আসলে কিছুই বলেননি যে, আমি এটা করেছি, ওটা করিনি। এভাবে আমরা আসলে কিছুই জানতে পারিনি।
