পরিবহন ধর্মঘটে দ্বিতীয় দিনেও অচল দেশ, পথে পথে ভোগান্তি

নজর২৪ ডেস্ক- জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে শুক্রবার সকাল থেকে সারা দেশে বেসরকারি বাস, মিনিবাস, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার পরিবহন খাতের মালিক-শ্রমিকদের একাধিক সংগঠন যাত্রী-পণ্যবাহী যান বন্ধ রাখার পক্ষে অবস্থান নেয়।

 

পরিবহন ধর্মঘটে শুক্রবার কার্যত পুরো দেশ থমকে যায়। হাজারো ভোগান্তি মাথায় চেপে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করেন যাত্রীরা। সড়কে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য ছোট যানের ভাড়া বেড়ে যায় কয়েকগুণ। যানবাহন না পেয়ে অনেকে হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেন।

 

এদিকে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটে দ্বিতীয় দিনও দেশের প্রায় সর্বত্র পণ্য ও যাত্রীবাহী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অফিসগামী যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। কিন্তু মিলছে না গণপরিবহন। সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও রিকশা সকাল থেকে দখল করে নিয়েছে সড়ক। এসব যানে ভাড়া বেড়েছে আগের তুলনায় কয়েকগুণ।

 

শনিবার রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় দেখা যায়, ট্রেন থেকে নেমেই বাড়ি ফিরতে গিয়ে পরিবহন সংকটে পড়েছেন অনেকে। আগের দিনের মতো অনেকক্ষণ পরপর দুই-একটি বিআরটিসির দ্বিতল বাস আসলে হুড়মুড় করে সবাই ওঠার চেষ্টা করছেন। কিন্তু কেউ কেউ ব্যর্থ হয়ে অপেক্ষা করছেন পরের গাড়ির জন্য।

 

সরকার ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ানোর পর ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে শুক্রবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যানবাহন বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন মালিক ও শ্রমিকরা। অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘটের প্রথম দিনে গতকাল কার্যত অচল হয়ে পড়ে দেশ। ঘর থেকে যারা বের হয়েছেন, তারা সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েন। পথে পথে ছিল দুর্ভোগ। শিশু ও বয়স্কদের পড়তে হয় সবচেয়ে খারাপ অবস্থায়। ভর্তি ও চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা পড়েছেন আরও বিপাকে। কয়েক গুণ ভাড়া দিয়ে বিকল্প উপায়ে তারা কেন্দ্রে পৌঁছেন।

 

গত বুধবার রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ানোর বিষয়টি জানায় জ্বালানি মন্ত্রণালয়। লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা আসে। রাতেই তা কার্যকর হয়। এর ফলে ডিজেল ও কেরোসিন তেলের নতুন দর হয় প্রতি লিটার ৮০ টাকা; যা এতদিন ছিল ৬৫ টাকা।

 

ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্যবৃদ্ধিতে জীবনযাত্রার ব্যয় ও পরিবহন ভাড়া বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। ট্রাক, বাসসহ পরিবহনের জ্বালানি হিসেবেই ডিজেলের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, ট্রাক ভাড়া বাড়লে পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে যাবে। দাম বাড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের। চাপ পড়বে সীমিত আয়ের মানুষের ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *