ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না রাখার চিন্তা করছে আ. লীগ

নজর২৪ ডেস্ক- স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতীক প্রশ্নে দলের শীর্ষ নেতাদের আবারও মতামত নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ২৫ অক্টোবর আওয়ামী লীগ স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সভায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে (ইউপি) প্রতীক নিয়ে নতুন করে মতামত গ্রহণ করা হয়।

 

সভায় বেশিরভাগ সদস্য ইউপি নির্বাচনে প্রতীক না রাখার ব্যাপারে পরামর্শ দেন। ২৫ অক্টোবরের মনোনয়ন বোর্ড সভায় দলের সভাপতিমণ্ডলী ও মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম তার নির্বাচনি আসন গোপালগঞ্জ-২-এ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব করেন।

 

তিনি বলেন, একজনকে মনোনয়ন দিলে অন্যজন কষ্ট পান। তাতে সংসদ সদস্য হিসেবে আমার বিব্রত হতে হয়। উন্মুক্ত রাখা হলে এই বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে না।

 

চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ইতোমধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে আওয়ামী লীগ। প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও নৌকার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতারাও। এর বিরুদ্ধে কেন্দ্র থেকে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও বিদ্রোহী দমনে ব্যর্থ হচ্ছে দলটি। এই ইস্যুটি মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সামনে উপস্থাপন করেন। কয়েকজন সদস্য ইউনিয়ন পরিষদে অন্তত প্রতীক না রাখতে পরামর্শ দেন।

 

প্রধানমন্ত্রী জানতে চান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতীক রাখা না রাখার সুফল ও কুফল। ২৫ অক্টোবরের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় উপস্থিত সদস্যরা সুফল ও কুফল তুলে ধরেন।

 

আওয়ামী লীগ সূত্রগুলো বলছে, বেশিরভাগ সদস্য বক্তব্যে নেতাদের অসুবিধার মুখোমুখি হতে হচ্ছে এমনটা তুলে ধরেন। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা বলেন, তৃণমূলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। দেশে প্রায় ৬ হাজার ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এই ভোট প্রতীক বাদ দিয়ে করলে বিদ্রোহী প্রার্থীমুক্ত থাকতে পারবে আওয়ামী লীগ। কোন চেয়ারম্যান প্রার্থী যোগ্য-অযোগ্য সেটা স্থানীয় জনগণই নির্বাচন করবে। এতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সংসদ সদস্যরা নির্ভার থাকতে পারবেন। এখন জেলা-উপজেলা ও সংসদ সদস্যদের প্রার্থী বাছাইকে কেন্দ্রে করে যে বেগ পেতে হয় সেটা আর থাকবে না।

 

সভায় উপস্থিত থাকা নেতারা আরও জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হয়তো আগের মতো প্রতীক ছাড়া করার সিদ্ধান্তে আসতে পারে আওয়ামী লীগ। তবে স্থানীয় সরকারের অন্য নির্বাচনগুলো, যেমন- পৌরসভা মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান ও সিটি করপোরেশন মেয়র প্রতীক রেখেই হতে পারে।

 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, মনোনয়ন বোর্ডের সর্বশেষ সভায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতীক রাখা হবে কিনা তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তবে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা সবার মতামত নিয়েছেন।

 

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগামী ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে সারাদেশে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন। এখানে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় ৯০০। এসব প্রার্থীর পেছনে দলের মন্ত্রী ও এমপিরা মদদ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ আছে। অনেক জায়গায় প্রভাবশালীদের আত্মীয়-স্বজন বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, মন্ত্রী-এমপিদের স্বজনদের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না। বিষয়টি দলের হাইকমান্ড দেখছে।

 

দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, বিদ্রোহীদের বিষয়ে আমাদের আগেই সিদ্ধান্ত দেওয়া আছে। যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন, আগামীতে কখনও তারা নৌকা প্রতীক পাবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *