নজর২৪ ডেস্ক- গেল সপ্তাহে আত্মপ্রকাশ করেছে রাজনৈতিক দল গণঅধিকার পরিষদ। সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া দলটির আহ্বায়ক। তবে এই দলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকাকালীন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ সংগঠনের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন তিনি। বিশেষ করে সরকারি চাকরিতে কোটাবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি ছাত্র ও তরুণদের মধ্যে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
গত ২৬ অক্টোবর দুপুরে পল্টনের প্রীতম জামান টাওয়ারে নিজস্ব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে গণঅধিকার পরিষদ। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দলটির স্লোগান ‘জনতার অধিকার, আমাদের অঙ্গীকার‘। গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ— এই চারটি বিষয়কে দলের আদর্শ হিসেবে ঘোষণা করেন নুর। পাশাপাশি জানানো হয়, আগামী জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেবে দলটি।
নতুন যাত্রায় গণঅধিকার পরিষদের পরিকল্পনা কী? জানতে চাইলে গণমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে ভিপি নুর বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরেও যে এখনো বাংলাদেশে সুস্থ ধারার রাজনীতি গড়ে উঠেনি— এই দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি পরিবর্তন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের যে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ছিল— সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার— এর কোনোটিই ৫০ বছরে অর্জন করা যায়নি। সেক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের এই মূলমন্ত্র বাস্তবায়ন করা আমাদের লক্ষ্য।
তৃতীয়ত, বাংলাদেশে যারাই ক্ষমতায় থাকেন, তারাই ভিন্নমতের প্রতি অসহিষ্ণু আচরণ করেন। এমনকি ইতিহাসের মীমাংসিত বিষয়গুলোও বড় বড় দলগুলো একেকভাবে স্মরণ করে। ৩০ লাখ শহিদের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাও একেক দল একেকভাবে স্মরণ করে। ইতিহাস ও জাতীয় নেতাদের প্রশ্নে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলাও তাই আমাদের লক্ষ্য।
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা ভাসানী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ অনেক জাতীয় নেতাই রয়েছেন। এর মধ্যে গণঅধিকার পরিষদ কাকে আদর্শ হিসেবে অনুসরণ করবে?
এমন প্রশ্নের জবাবে নুর বলেন, কোনো মানুষের আদর্শ অন্ধভাবে অনুসরণ করা যায় না। এছাড়া আমি মনে করি, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছাড়া অন্য কাউকে অনুসরণ করার মতো কোনো আদর্শবান ব্যক্তিত্ব পৃথিবীতে নেই। তবে বাস্তব জায়গা থেকে অনেক মানুষের ভালো কাজকে আদর্শ হিসেবে আমরা গ্রহণ করি। আমরা এখন অধিকারবঞ্চিত। অধিকার আদায়ে অহিংস পথের কথা ভাবছি এবং ত্যাগের কথা বল। এ ক্ষেত্রে আমরা নেলসন ম্যান্ডেলার সংগ্রাম ও মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নিতে পারি।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মানুষের অধিকার আদায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যে ভূমিকা রেখেছেন, যেভাবে মুক্তিযুদ্ধে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছেন— এই জায়গাগুলোকে আমরা আদর্শ হিসেবে নিতে পারি। এছাড়া আরও যারা জাতীয় নেতা ছিলেন, যেমন— সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানী কিংবা জিয়াউর রহমান— এই ধরনের কীর্তিমান ব্যক্তিদের ভালো কাজগুলোকে আমরা আদর্শ হিসেবে নিতে পারি। কিন্তু এককভাবে কোনো ব্যক্তিকে অন্ধভাবে আদর্শ হিসেবে গ্রহণের ক্ষেত্রে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কেই ধরে নিচ্ছি।
আগামী নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সামনের নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে হবে না। কারণ কোনো রাজনৈতিক দলই সেটি মেনে নেবে না। এছাড়া রাজনীতি তো কেবল আওয়ামী লীগ করে না, দেশটাও তাদের পৈতৃক সম্পত্তিও না যে তারা যা বলবে, জনগণ সব মেনে নেবে। গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি দেশ-বিদেশে জনমত গঠনে যা করা দরকার, আমরা সব করব। নব্বইয়ে এরশাদ পতন আন্দোলনের সময় আপনারা তিন জোটের নেতৃত্বে আন্দোলন দেখেছেন।
এখন আওয়ামী লীগ ও তার উচ্ছিষ্ট সুবিধাভোগী রাজনৈতিক দলগুলো ছাড়া কেউই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চায় না। জনগণ আওয়ামী লীগের ভাঁওতাবাজি গত দুইটি নির্বাচনে বোঝেনি। শেখ হাসিনা বলেছিলেন তার প্রতি আস্থা রাখতে। একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী এমন বললে জনগণ আস্থা রাখতেই পারে। সে হিসাবে জনগণ দুই বার আস্থা রেখেছে এবং প্রতারিত হয়েছে। আগামী নির্বাচন তাই নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনেই হবে। সেটি হতে পারে জাতীয় সরকারের অধীনে, কিংবা তত্ত্বাবধায়ক সরকার অথবা জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে কোনো একটি সরকারে অধীনে।
