বিনোদন ডেস্ক- বর্তমানে ঢাকাই সিনেমার সবচেয়ে আলোচিত-সমালোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনির ‘অশালীন’ চলাফেরা পরিহারে চাপ সৃষ্টি করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির নেতারা।
শনিবার (৩০ অক্টোবর) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান তারা। সংযত না হলে পরীমনিকে গ্রেফতার করারও দাবি করেন দলটির নেতারা।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়— পরীমনি যখন কারাবন্দি ছিলেন তখন বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা মোহাম্মদ ইসমাইল হোসাইনের পক্ষ থেকে সুবিচার এবং মামলার সুন্দর নিষ্পত্তি দাবি করা হয়েছিল। একজন চলচ্চিত্র কর্মীকে যেন অযথা হয়রানি না করা হয় সে দাবিও আমরা করেছিলাম। তবে পরীমনির বিরুদ্ধে যেসব মাদকদ্রব্য ও একাধিক পুরুষের সঙ্গে অসামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ ছিল- সেগুলোর সত্যতা পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সে অনুযায়ী, তার যথাযথ শাস্তি প্রাপ্য হয়ে জেল থেকে ফেরত আসার পর বাংলাদেশের মতো একটি সুন্দর রাষ্ট্রে যেসব অসামাজিক এবং শালীনতা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড অবাধে করে যাচ্ছে তা নিঃসন্দেহে হস্তক্ষেপ যোগ্য।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। অনতিবিলম্বে পরীমনির এই নোংরা, জঘন্য এবং কুরুচিপূর্ণ আচরণের লাগাম টেনে ধরতে না পারলে গোটা চলচিত্র জগতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের চলচিত্র জগৎ সংকীর্ণ হয়ে উঠবে। এমন নোংরা আচরণ বাংলাদেশের মানুষ কখনই গ্রহণ করে না।
বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা মো. ইসমাইল হোসাইন এবং মহাসচিব মুফতি শাহাদাত হোসাইন, মাওলানা কাজী শাহ মো. ওমর ফারুক, মুফতি শেখ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, হাফেজ মাওলানা মোস্তফা চৌধুরী, মাওলানা মুফতি আবু হানিফ, মাওলানা আব্দুল আজিজসহ সবার দাবি, বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু এবং এসব পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত থাকতে চায়। এমন যেকোনো নোংরা ব্যক্তিত্বকে আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি প্রদান করা এখন সময়ের দাবি।
উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট বিকেলে বনানীর ১২ নম্বর সড়কে পরীমনির বাসায় অভিযান চালায় র্যাব। এ সময় ওই বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মা দ কদ্রব্য জব্দ করা হয়। মাদকের মামলায় পরীমনির ৫ আগস্ট চার দিন এবং ১০ আগস্ট দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। গত ১৩ আগস্ট রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এরপর আবারও ১৯ আগস্ট এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে গত ২১ আগস্ট আবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ৩১ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ চার্জশিট দাখিল হওয়া পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন। পরদিন কারামুক্ত হন পরীমনি।
এদিকে জমকালো এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে ক’দিন আগে নিজের জন্মদিন উদযাপন করেছেন ঢালিউড এ অভিনেত্রী। বরাবরই শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিয়ে জন্মদিন উদযাপন করেন তিনি। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এবারের জন্মদিনের পোশাক নিয়ে বেশ সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন। সরগরম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।
বিমানের ককপিটের আদলে সাজানো হয়েছিল পরীর জন্মদিনের মূল মঞ্চ। ওপরে লাইট বসানো ইংরেজিতে লেখা ‘ফ্লাই উইথ পরীমনি’ অর্থাৎ ‘পরীমনির সঙ্গে ওড়ো’। জন্মদিনের রাতে বিমানবালার বেশে অতিথিদের সামনে হাজির হয়েছিলেন পরীমনি। নেটিজেনদের আলোচনা-সমালোচনায় বড় জায়গা করে নিয়েছে এই পোশাক।
পরীমনি বর্তমানে গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘গুনিন’-এর শুটিং করছেন। পাশাপাশি তার হাতে এখন বেশ কয়েকটি সিনেমা আছে। ‘গুনিন’-এর পর ‘প্রীতিলতা’, ‘বায়োপিক’, ‘অন্তরাল’, ‘মা’সহ আরো বেশ কিছু সিনেমার শুটিং শুরুর কথা রয়েছে।
