কে এই ইকবাল? অবশেষে জানা গেল আদ্যোপান্ত

নজর২৪ ডেস্ক- কুমিল্লার নানুয়াদিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার ঘটনায় ইকবাল হোসেন (৩৫) নামে এক ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এরইমধ্যে সবার মনে প্রশ্ন জেগেছে—কে এই ইকবাল?

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের দ্বিতীয় মুরাদপুর-লস্কর পুকুর এলাকার নূর আহমদ আলমের ছেলে ইকবাল। তার বাবা মাছের ব্যবসা করেন। পুলিশের একাধিক সংস্থার তদন্তে এবং সিটিটিভির ফুটেজ দেখে ইকবালকে শনাক্ত করা হয়।

 

ইকবালের মা বিবি আমেনা বেগম জানান, তার তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। ইকবাল সবার বড়। ইকবাল ১৫ বছর বয়স থেকেই মাদক সেবন শুরু করে। ১০ বছর আগে বরুড়া উপজেলায় বিয়ে করেছেন ইকবাল। তার এক ছেলে। বিয়ের পাঁচ বছর পর স্ত্রীর সঙ্গে ইকবালের ডিভোর্স হয়। তারপর চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়াবাজার এলাকার কাদৈর গ্রামে বিয়ে করেন। এই সংসারে এক ছেলে এক মেয়ে। ইকবালের স্ত্রী-সন্তান এখন কাদৈর গ্রামে থাকেন।

 

আমেনা বেগম বলেন, ইকবাল নেশাগ্রস্ত হয়ে নানাভাবে পরিবারের সদস্যদের অত্যা চার করতো। বিভিন্ন সময় রাস্তাঘাটে মানুষকে হয়রানি করতো। গোসলখানায় দরজা বন্ধ করে ইয়াবা সেবন করতো। ইকবাল মাজারে মাজারে থাকতো। বিভিন্ন সময় আখাউড়া মাজারে যেতো। কুমিল্লার বিভিন্ন মাজারেও তার যাতায়াত ছিল। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে।

 

১০ বছর আগে বন্ধুদের সঙ্গে পাড়ার কিছু ছেলের মারামারি হয়। এ সময় ইকবালের পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়। তখন থেকে ইকবাল অসুস্থ। উল্টাপাল্টা চলাফেরা করায় বিভিন্ন সময় চোরের অপবাদ দিয়ে তাকে স্থানীয়রা মারধর করতো। পরে তারাই আক্ষেপ করতো। ভালো ক্রিকেটও খেলতে পারতো ইকবাল। কয়েক দিন আগে কাউন্সিলরের কাছ থেকে শুনেছি, ইকবাল পূজামণ্ডপ থেকে হনুমানের গদা নিয়ে আসে। এরপর থেকে এলাকায় তাকে নিয়ে চলছে আলোচনা।

 

ইকবালের ছোট ভাই রায়হান বলেন, ইকবালকে খুঁজতে পুলিশের সঙ্গে গত শুক্রবার থেকেই আছি। ইকবাল ভালো কোরআন তিলাওয়াত করতে পারেন।

 

রায়হান জানান, তার ভাই যদি অন্যায় করে থাকেন, যদি তা সত্য হয়, তাহলে তার শাস্তি হোক। তবে ইকবাল কারও প্ররোচনায় এমন কাজ করতে পারেন।

 

ইকবালের নানি রহিমা বেগম জানান, ১৩ দিন আগে ঘর থেকে ইকবালকে বের করে দিয়েছি। ব্লেড দিয়ে পাঁচটি হাঁস জবাই করেছে। ইকবালের অত্যাচারে আমি অতিষ্ঠ।

 

এ বিষয়ে ১৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ সোহেল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমি ১০ বছর ধরে ইকবালকে চিনি। সে রঙের কাজ করত। মাঝে মাঝে নির্মাণকাজের সহযোগী হিসেবেও কাজ করত। ইকবাল ইয়াবা সেবন করায় প্রায়ই তাকে নিয়ে অনেক দেনদরবার করতে হতো।

 

কুমিল্লার ঘটনাটিতে যে সিসি ক্যামেরার ফুটেজের মাধ্যমে মূল সন্দেহভাজন শনাক্ত হয়েছে, তা সামনে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। ঢাকা থেকে এটিইউর বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে নিয়ে এর রহস্য উদঘাটনে এখনও কাজ চলছে।

 

তবে ইকবাল কেন, কী কারণে, কাদের প্ররোচনায় পবিত্র কোরআন শরিফ নিয়ে মণ্ডপে রেখে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, সে সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

 

এ বিষয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, আমরা এ ঘটনার মূল সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করেছি। তাকে গ্রেপ্তারে সর্বাত্মক শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে। আশা করি শিগগিরই নাটকীয় অগ্রগতি পাওয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *