বিয়ের চাপে নাজেহাল শিক্ষার্থীরা!

নজর২৪ ডেস্ক- ‘দেড় বছর যখন একটা মেয়ে বাসায় থাকে, তখন পরিবারের কাছে মেয়েটি বোঝা হয়ে যায়। পরিবার এবং সমাজ থেকে বিয়ের জন্য প্রেসার আসতে থাকে। তখন আসলে পড়াশোনাটাও হয় না। আমাকেও বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিলো। আমি একেবারেই ভেঙে পড়েছিলাম মানসিকভাবে। ভাবছিলাম, বিয়ে করলে আমার পড়াশোনার কী হবে? আমার স্বপ্ন তো শেষ হয়ে যাবে।’

 

একনাগাড়ে এভাবেই বলছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী সালসাবিলা আহমেদ।

 

শুধু সালসাবিলাই নন। বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আঁচল ফাউন্ডেশনের জরিপ বলছে, করোনাকালীন মানসিক সমস্যায় ভোগা নারী শিক্ষার্থীর হার পুরুষের চেয়ে ৭ শতাংশ বেশি। জরিপে অংশ নিয়েছেন ৯৯৯ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৫৫২ জন নারী শিক্ষার্থী। ৮৪.৬ শতাংশ শিক্ষার্থীই করোনাকালে নানান মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন।

 

রাজধানীর হোম ইকোনমিক্স কলেজের শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন-এর করোনাকালীন অভিজ্ঞতাও অনেকটা একইরকম। ‘হল বন্ধ করে দিলে আমি গ্রামে চলে যাই। অনলাইন ক্লাস শুরু হওয়ার পর দেখলাম, আমি ইন্টারনেট সমস্যার কারণে ক্লাস করতে পারছি না। তখনই হতাশ হয়ে পড়ি। বন্ধুদের বাসায় বিয়ের চাপ আসা শুরু করলো। আমার পরিবারে খুব একটা চাপ না দিলেও আমি প্রেশার অনুভব করা শুরু করলাম।’

 

আঁচল ফাউন্ডেশনের করা ‘করোনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মানসিক বিপর্যয়’ শীর্ষক জরিপ চলে গত ১২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। যাতে দেশের ৯২টি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ হাজার ৫৫২ শিক্ষার্থীর বক্তব্য নেওয়া হয়। এই বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তাঁরা। শিক্ষার্থীদের প্রায় ৬১ শতাংশ নারী। তৃতীয় লিঙ্গের ছিলেন ১ জন। শিক্ষার্থীদের বয়স ছিলো ১৮ থেকে ২৮ বছর। এর মধ্যে বেশির ভাগই ছিলেন ১৮ থেকে ২৩ বছর বয়সী।

 

জরিপে দেখা গেছে, ৮৪ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী বিষণ্ণতাসহ নানান মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। এদের মধ্যে সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীই বেশি। করোনার এই দেড় বছরে গ্রামে থাকা শিক্ষার্থীদের ৮৬ দশমিক ২ ভাগ মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। মানসিক সমস্যায় ভোগা নারী শিক্ষার্থীর হার পুরুষের চেয়ে ৭ শতাংশ বেশি। অঞ্চল ভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি মানসিক সমস্যায় সিলেটের শিক্ষার্থীরা।

 

জরিপ বলছে, দ্রুত অনলাইনে ক্লাস শুরু হওয়ায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানসিক সমস্যার হার ছিলো তুলনামূলক কম। সে তুলনায় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বেশি অবসাদগ্রস্ত ছিলেন। তবে অনলাইন ক্লাস নিয়ে অসন্তুষ্ট বেশির ভাগ শিক্ষার্থী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *