মামুনুর রশিদ, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ)- করোনা মহামারির ভয়াবহতা কাটিয়ে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ পদ্ধতিতে গুচ্ছভুক্ত ২০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয় ভর্তি পরীক্ষা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাংবাদিকদের জানানো হয়, গুচ্ছপদ্ধতির এই ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়,শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা ও মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ ২০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে মোট ২৮টি কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে ভর্তি পরীক্ষাগুলো।
সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, এবারের ভর্তি পরীক্ষায় ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য ২২ হাজার আসনের বিপরীতে ২ লাখ ৩২ হাজার ৪৫৫ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করেছেন। এরমধ্যে এ-ইউনিটে ১ লাখ ৩১ হাজার ৯০১ জন, বি-ইউনিটে ৬৭ হাজার ১১৭ জন ও সি-ইউনিটের জন্য আবেদন করেছেন ৩৩ হাজার ৪৩৭ জন পরীক্ষার্থী।
এ ইউনিট (বিজ্ঞান) এর ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৭ অক্টোবর, (দুপুর ১২টা থেকে-১টা), বি ইউনিট (মানবিক) এর ভর্তি পরীক্ষা ২৪ অক্টোবর, (দুপুর ১২টা থেকে-১টা), সি ইউনিট (বাণিজ্য) এর ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১ নভেম্বর, (দুপুর ১২টা থেকে-১টা) অনুষ্ঠিত হবে।
গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে এবারই প্রথম এবং এ বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষার অন্যতম একটি কেন্দ্র। কলাভবন, বিজ্ঞান ভবন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবন ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের মোট ১২৩টি কক্ষে এ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৭ হাজার ৬ শত ৮৮ জন, বি-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৬ হাজার ৪ শত ৯৭ জন এবং সি-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ১ হাজার ৩ শত ৫৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভর্তি পরীক্ষার সময় ভর্তিচ্ছুদের হয়রানি লাঘব করার জন্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদের অভিপ্রায়ে এ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের একটি মেধা তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দমত তালিকাভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
অন্যদিকে প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের আসন সংখ্যার সামর্থের উপর ভিত্তি করে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩টি বিভাগে কোটাসহ সম্ভাব্য সর্বোচ্চ আসন সংখ্যা হতে পারে ১২৪৪। এর মধ্যে বিভিন্ন কোটা হতে ১৩৪ জন ভর্তির সুযোগ পেতে পারেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান, রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর, টেকনিক্যাল উপ-কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. মো. সুজন আলী, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবদুল হালিম, সঙ্গীত বিভাগের প্রফেসর ড. রশিদুন নবী, অতিরিক্ত পরিচালক, পি এস টু ভাইস-চ্যান্সেলর ও সদস্য-সচিব এস.এম. হাফিজুর রহমান সহ অন্যান্যরা।
