নজর২৪ ডেস্ক- ই-বাণিজ্য মার্কেটপ্লেস ইভ্যালির যাত্রা শুরু ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে। প্রতিষ্ঠানটির যাত্রাকালেই গ্রাহকদের বিভিন্ন অফার দিয়ে আকৃষ্ট করেন ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেল। অল্প দিনের মধ্যেই সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে ইভ্যালির নাম। সেই নাম আর বেশিদিন ধরে রাখতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।
তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বানানো হয়। লোভনীয় অফার দিয়ে তারা ক্রেতা টানার কৌশল মানুষের মাঝে উদ্দীপনা সৃষ্টি করার পাশাপাশি অনেক সমালোচনারও সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে মামলা হয় ইভ্যালির বিরুদ্ধে।
পরে গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টায় মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান চালিয়ে রাসেল ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-২। এরপর রাসেলকে দুই দফায় চারদিন এবং তার স্ত্রীকে তিনদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হচ্ছে তদন্ত প্রতিবেদন ও চার্জশিট।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চার্জশিটে রাসেলের ধারদেনার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল জানান, ইভ্যালির দায়ের পরিমাণ ৫৪২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এরমধ্যে ২০৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা পাবেন মার্চেন্টরা, যা স্বাভাবিক বলে দাবি করেছেন রাসেল। তিনি পুলিশকে জানান, যেকোনো ব্যবসায় ক্রেডিট থাকে। এছাড়া মার্চেন্টরা ১৫-২০ শতাংশ হারে মুনাফা পাচ্ছেন। তাই মার্চেন্টদের কাছে দেনার পরিমাণটি স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য।
এছাড়া ১৬ আগস্ট পর্যন্ত গ্রাহকদের কাছে ইভ্যালির ৩১০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা দেনা রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন রাসেল। তিনি বলেন, ইভ্যালিতে যখন বিনিয়োগ আসবে তখন এই টাকা পরিশোধ করা হবে। তবে কোনো বিনিয়োগ পাননি বলেও জানান।
তবে অর্ডার দেয়া পণ্য প্রাপ্তিতে দেরির জন্য রাসেল দায়ী করেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও ডেলিভারি (তৃতীয় পক্ষ) প্রতিষ্ঠানকে। তিনি বলেন, ইভ্যালি বেশিরভাগ অর্ডারের বিষয়ে বিক্রেতা ও ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানকে জানিয়ে দিত। কিন্তু পণ্য উৎপাদন করে তা পৌঁছে দিতে তারা দেরি করে। সেসব প্রতিষ্ঠানকে জানানোর পর গ্রাহক অর্ডার দেওয়া পণ্য পেলেন কি-না ইভ্যালির তার খোঁজ নেওয়ার উপায় ছিল না বা এ বিষয়ে জানার চেষ্টা করা হতো না।
সূত্র জানায়, ইভ্যালির বিরুদ্ধে যে তিনটি ধারায় মামলা হয়েছে তার মধ্যে ৫০৬ ধারায় গ্রাহককে ‘হুমকি দেওয়া ও ভয়ভীতি দেখানোর’ প্রমাণ পায়নি পুলিশ। তবে বাকি দুই ধারা ৪২০ ও ৪০৬ ধারায় প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। আর এই দুই অভিযোগেই রাসেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে ইভ্যালির বিরুদ্ধে গুলশান থানার মামলাগুলোর চার্জশিট মোটামুটি প্রস্তুত হয়ে গেছে। আনুষঙ্গিক কিছু কাজ কেবল বাকি আছে। এগুলো গুছিয়ে আনা হলেই আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক ওয়াহিদুল ইসলাম এ বিষয়ে সুনির্দষ্ট কিছু বলতে রাজি হননি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একটি সূত্র বলছে, ইভ্যালির রাসেলসহ অন্যদের বিরুদ্ধে এই মাসেই অর্থাৎ অক্টোবর মাসের মধ্যেই চার্জশিট জমা দেওয়া হতে পারে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ফারুক হোসেন বলেন, ‘ইভ্যালিসহ অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে যারা প্রতারণা করে গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করেছে তাদের বিরুদ্ধে অনেকগুলো মামলা হয়েছে। সর্বশেষ সোমবার কিউকমের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় একটি মামলা হয়েছে। এই মামলাগুলোর তদন্ত চলমান আছে। যারা প্রতারণা করেছে এবং যারা সহযোগিতা করেছে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। আশা করছি, তদন্ত শেষ করে কিছুদিনের মধ্যেই মামলাগুলোর চার্জশিট জমা দেবে পুলিশ।’
