সেই পাঠাও চালককে নতুন মোটরসাইকেল কিনে দেবেন গোলাম রাব্বানী

নজর২৪, ঢাকা- পুলিশ সার্জেন্টের অব্যাহত মামলায় ক্ষুব্ধ এক মোটরবাইক রাইড শেয়ারিং চালক নিজের মোটরসাইকেলে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন। চোখের সামনেই জ্বলতে থাকা জীবন-জীবিকার একমাত্র অবলম্বনটি মাত্র ১০ মিনিটেই পুড়ে শেষ হয়ে যায়।

 

সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর বাড্ডা লিংক রোডের এ ঘটনায় আলোচিত পাঠাও চালক শওকত আলম সোহেলকে মোটর সাইকেল উপহারের ঘোষণা দিয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

 

নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডি থেকে এই ঘোষণা দিয়ে গোলাম রাব্বানী জানান, ‘মানুষ কতটা কষ্ট পেলে, কতটা অসহায়ত্ব তাকে গ্রাস করলে ক্ষোভে-দুঃখে উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন আগুনে পুড়িয়ে দেয়, মানবিক হৃদয় দিয়ে সেটা অনুধাবনের চেষ্টা করুন!

 

ছাত্রলীগের সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক ফেসবুকে লিখেছেন, ‘জনাব শওকত আলম সোহেল; করোনা দুর্যোগে নিজের ছোট্ট দোকানের ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে, জীবন জীবিকার তাগিদে কয়েকমাস যাবত পাঠাও রাইডার হিসেবে রাস্তায় নামেন! চরম অর্থনৈতিক দৈন্যদশার মাঝে ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’… একটা মানুষ কতটা কষ্ট পেলে, কতটা অসহায়ত্ব তাকে গ্রাস করলে ক্ষোভে-দুঃখে উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন, মোটরসাইকেলটি আগুনে পুড়িয়ে দেয়, মানবিক হৃদয় দিয়ে সেটা অনুধাবনের চেষ্টা করুন!

 

আমি Team Positive Bangladesh (TPB) এর পক্ষ থেকে ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনার ভালোবাসার উপহার’ হিসেবে শওকত আলম ভাইকে একটি ভালো মানের মোটরসাইকেল কিনে দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করছি। তার সাথে ফোনে কথা হয়েছে, কিছুক্ষণ পরেই টিপিবি’র অফিসে আসবে। সরাসরি কথা বলে দ্রুততম সময়ে বাইক হস্তান্তর করা হবে ইনশাআল্লাহ।

 

আর আজকে বাংলাদেশ পুলিশের সুযোগ্য মহাপরিদর্শক শ্রদ্ধেয় ড. বেনজীর আহমেদের জন্মদিনে তাঁর গুণমুগ্ধ ভক্ত ও স্নেহাশীষ অনুজ হিসেবে আকুল আবেদন, এই দুর্যোগকালীন সময়ে রাইড শেয়ারিং এপ্লিকেশন ভিত্তিক লক্ষাধিক সাধারণ চালকদের অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করে, তাদের প্রতি নমনীয়, সহনশীল আচরণ ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করতে দেশব্যাপী ট্রাফিক পুলিশের প্রতি যথাযথ নির্দেশনা দেবেন। শওকত আলম ভাইয়ের মতো আরো অনেকেই আছেন, যারা পেশাদার চালক নন, করোনা দুর্যোগকালীন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চাকরি বা ব্যবসা হারিয়ে বাধ্য হয়ে বাইক নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন।’

 

বাইকে আগুন

রাজধানীর বাড্ডা লিংক রোড এলাকায় ট্রাফিক সার্জেন্ট মামলা দেয়ার প্রস্তুতিকালে ক্ষোভে নিজের মোটরসাইকেলে আগুন দিয়েছেন শওকত আলম সোহেল নামের এক বাইকার।

 

সোমবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডে এ ঘটনা ঘটে। ব্যবসায় লোকসান হওয়ার পর তিনি উবারে যাত্রী টেনে সংসার চালাতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

মিরাদুল মুনিম নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী আগুন ধরিয়ে দেয়ার পর সেটি ভিডিও করে ফেসবুকে শেয়ার করেন। মুহূর্তে সেটি ভাইরাল হয়ে যায়।

 

তিনি লেখেন, ‘মনের কষ্টে নিজের বাইকে আগুন! কাগজপত্রে সামান্য ত্রুটি থাকায় মামলা দেয় পুলিশ। তাই মনের কষ্টে গ্যাসলাইট দিয়ে নিজেই আগুন ধরিয়ে দেয় শওকত আলম সোহেল নামে এই হতভাগা আদম। অনেক চেষ্টা করেও আগুন নেভাতে চেষ্টা করলাম, কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ!’

 

ভিডিওতে দেখা যায়, বাইকে আগুন দিয়ে সোহেল উদভ্রান্তের মতো চিৎকার করছেন। প্রত্যক্ষদর্শী একজন পানি ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। তখন সোহেল এসে তাকেই বাধা দেন। বলেন, ‘কেউ যাবেন না, আপনারা কেউ যাবেন না।’

 

অন্য একজন সোহেলকে বলেন, ‘ভাই মাথা ঠান্ডা করেন।’

 

পুলিশ জানিয়েছে, সার্জেন্ট এই ঘটনার পরে আর মামলা দেননি। আগুন নিভিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাইকচালক ও দায়িত্বে থাকা সার্জেন্টকে থানায় নেয়া হয়। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ।

 

এখন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে জানা গেছে বাইকার শওকতের বাড়ি কেরানীগঞ্জে। করোনা সংক্রমণ শুরুর আগে তিনি স্যানিটারি সামগ্রীর ব্যবসা করতেন। এতে তার লোকসান হয়।

 

জীবিকা নির্বাহে শওকত দুই মাস ধরে বাইকে যাত্রী পরিবহন করতেন। তিনি অ্যাপভিত্তিক রাইড সেবা উবার ব্যবহার করতেন।

 

কয়েক দিন আগে পল্টনে ট্রাফিক আইন অমান্য করায় একটি মামলা হয় শওকতের নামে। এ মামলার টাকা পরিশোধ করার পর সকালে আবার মামলা দিতে যাচ্ছিলেন বাড্ডা এলাকার দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক সার্জেন্ট। তখন ক্ষুব্ধ হয়ে বাইকের ট্যাংকি থেকে তেল বের করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন শওকত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *