নজর২৪, ঢাকা- পুলিশ ইভ্যালির মামলা তদন্তে করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সিইও মো. রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। পুলিশ যা জানতে চেয়েছে, রাসেল কোনও না কোনও উত্তর দিয়েছেন। রাসেল পুলিশকে বলেন, ‘আমি গতানুগতিক ব্যবসার বাইরে গিয়ে বেশি ছাড়ে পণ্য বিক্রি করেছি। অফার দিয়েছি। এর বাইরে কোনও অপরাধ করিনি।’
রাসেল ও নাসরিনকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদও করেছে পুলিশ। এ সময় দুজনই ইভ্যালির বিষয়ে নিজেদের নিরপরাধ দাবি করেন। তারা বলেন, তারা ইভ্যালির অর্থ নয়ছয় করেননি। লস দিয়ে পণ্য বিক্রির এই প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করে ব্র্যান্ড তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার বিক্রি করে তা পুষিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
জানা যায়, প্রতিষ্ঠানকে ব্র্যান্ড বানাতে গিয়ে তিনি শুধু বিজ্ঞাপন বাবদ ৪০০ কোটি টাকা খরচ করেছেন। সেই বিজ্ঞাপন ছিল সড়কের বিলবোর্ড থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনেও।
তিনি জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন যে, ইভ্যালি কোনো গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করেনি। গ্রাহক তাদের শর্ত জেনেই পণ্য অর্ডার করেছেন। পণ্য অর্ডার বেশি হওয়ার কারণ হচ্ছে যে, অনেক বেশি মূল্যছাড়। এতে গ্রাহক হুমড়ি খেয়ে পড়েন। চারদিকে হইচই পড়ে যায়। তিনি এবং তার স্ত্রী মনে করেছিলেন যে, মার্কেট ভ্যালু বেড়ে গেলে গ্রাহকের চাহিদা আরও বেশি বাড়বে। এতে আরও বেশি পণ্য বিক্রয় হলে তাদের ইভ্যালিতে যে লোকসানের পরিমাণ আছে তা কমে যাবে। এতে ডেলিভারিতে জট লেগেছিল তা কমে যাবে।
তারা জানিয়েছেন, করোনা পরিস্থিতিতে তাদের পণ্য স্টক কমতে থাকে। পাশাপাশি ফেসবুকে নানারকম পোস্ট আসায় গ্রাহকেরা তাদের টাকা ফেরত চেয়ে ইভ্যালির কার্যালয়ে ভিড় করেন। এ কারণে তাদের ইভ্যালি নিয়ে সব পরিকল্পনা জলে গেছে।
গত বৃহস্পতিবার বিকালে মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে রাসেল ও নাসরিনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। গুলশান থানায় ইভ্যালির এক গ্রাহকের করা মামলার প্রেক্ষিতে তাকে র্যাব গ্রেপ্তার করে। পরে গুলশান থানা পুলিশ তাকে আদালতে প্রেরণ করে ১০ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করে।
পরে আদালত তাদের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে পুলিশ গতকাল তাদের আদালতে হাজির করে আবারও দ্বিতীয় দফায় রিমান্ড আবেদন করে। আদালত রাসেলের ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গুলশান থানার এসআই ওহিদুল ইসলাম জানান, ইভ্যালির বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, ইভ্যালির কাছে গ্রাহকের পাওনা প্রায় ১০০০ কোটি টাকা। এ টাকা কোথায় কীভাবে ব্যয় হয়েছে এবং রাখা হয়েছে সে বিষয়টি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাসেল ও তার স্ত্রী নাসরিনের কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু এ টাকার বিষয়ে তারা কোনো স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি
সূত্র জানায়, রাসেল পুলিশি রিমান্ডে দাবি করেছেন যে, ইভ্যালির প্রতিটি পণ্য বিক্রির বিজ্ঞাপনের সঙ্গে পণ্য ডেলিভারির বিষয়ে শর্ত দেয়া ছিল। এর মধ্যে অন্যতম শর্ত ছিল ‘স্টক থাকা পর্যন্ত’। অনেক সময় স্টক শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে পণ্য ডেলিভারি দিতে পারেননি।
তারা দাবি করেছেন যে, যাদের পণ্য ডেলিভারি দিতে পারেননি তাদের টাকা সঙ্গে সঙ্গেই ফেরত দেয়া হয়েছে। এখানে কোনো প্রতারণা করা হয়নি। রাসেল ও নাসরিন দাবি করেছেন যে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সোয়া ২ লাখ গ্রাহক তাদের পণ্য নেয়ার জন্য আবেদন করেছেন। তাদের মধ্যে ৫০ হাজার গ্রাহকের পণ্য তারা ডেলিভারি দিয়েছেন। যাদের দিতে পারেননি তাদের পণ্য বিদেশ থেকে আনার জন্য অর্ডার করা হয়েছিল। করোনার কারণে তারা আনতে পারেননি। তবে তারা তাদের পণ্যগুলো দিয়ে দিতেন। তবে তিনি পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন যে, ব্যবসায়িক কৌশলে কিছু ভুল ছিল। যে ভুলের মাশুল তারা এখন দিচ্ছেন।
সূত্র জানায়, রাসেলের পরিকল্পনা ছিল যে, তাদের প্রতিষ্ঠান শেয়ার বাজারে আরও বেশি অর্থ আয় করে সেটি গ্রাহকদের পণ্য ডেলিভারি দিবে এবং এতে লোকসানের পরিমাণ কমে আসবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।
