নজর২৪ ডেস্ক- দেশের আলোচিত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে আজ মঙ্গলবার বৈঠকে বসতে যাচ্ছে দেশে ডিজিটাল ই-কমার্স পরিচালন সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ২৩৯ নং কক্ষে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ই-কমার্স সেল প্রধান ও মন্ত্রণালয়ের ডাব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. হাফিজুর রহমান।
অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, আরজেএসসি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ই-ক্যাব প্রতিনিধিসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নিযুক্ত ব্যবসা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার তানজিব উল আলম অংশ নেবেন।
এর থেকে সর্বসম্মত পর্যালোচনা ও মতামতের ভিত্তিতে ইভ্যালি ইস্যুতে ভবিষ্যত নির্ধারণ ও সরকারের পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।
এর আগে ইভ্যালিসহ ১০ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে থার্ড পার্টি অডিটর নিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত আর্থিক অবস্থা জানতে আলাদা নিরীক্ষা করার সুপারিশ জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই চিঠিতে ইভ্যালি ছাড়াও অন্য ৯ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ধামাকা, ই-অরেঞ্জ, সিরাজগঞ্জ শপ, আলাদীনের প্রদীপ, কিউকম, বুমবুম, আদিয়ান মার্ট, নিউ ডটকম ডটবিডি ও আলেশা মার্ট।
এসব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের আর্থিক চিত্র জানাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে সম্প্রতি চিঠি দেয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক তার জবাবে থার্ড পার্টি অডিটর নিয়োগের সুপারিশ জানায়।
এদিকে ইভ্যালি ইস্যুতে দায়িত্বশীল সূত্রমতে, ইভ্যালির কাছে গ্রাহক ও মার্চেন্টদের যে পরিমাণ অর্থ পাওনা রয়েছে, তা পরিশোধের যথেষ্ট নগদ অর্থ নেই প্রতিষ্ঠানটির হাতে। চলতি বছরের ১৫ জুলাই পর্যন্ত সময়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ইভ্যালি তার যে আর্থিক স্টেটমেন্ট জমা দিয়েছে, তাতে এ চিত্র উঠে এসেছে।
ওই পর্যালোচনায় দেখা যায়, ইভ্যালি যে পরিমাণ সম্পদ থাকার কথা জানিয়েছে, তা গ্রাহক ও মার্চেন্টদের পাওনার তুলনায় অনেক কম। বড় প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ এনে সক্ষমতা বাড়িয়ে নিয়মিত ব্যবসায়িক কার্যক্রম দিয়ে গ্রাহক ও মার্চেন্টদের পাওনা পরিশোধের কথা বলা হয়। কিন্তু ইতিমধ্যে ইভ্যালিতে ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েও তা থেকে সরে আসে যমুনা গ্রুপ।
ইভ্যালির ভবিষ্যত নিয়ে সরকার কী ভাবছে জানতে চাইলে ডিজিটাল ই-কমার্স সেল প্রধান ও অতিরিক্ত সচিব মো. হাফিজুর রহমান জানান, ‘সরকার যা করবে বৃহত্তর স্বার্থেই করবে। সেটা যেমন লিগ্যাল ফরমেট নিশ্চিত করবে, একইভাবে মানবিক দিকটিও গুরুত্ব পাবে। কারণ এখানে বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের স্বার্থ জড়িত। ইভ্যালির কাছ থেকে কীভাবে গ্রাহকের পাওনা উদ্ধার করা যায়, এটা যেমন গুরুত্বপুর্ণ, তেমনি অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটির এখন যা অবস্থা সে অবস্থায় কোন প্রক্রিয়ায় পাওনা আদায়ের পথটি সহজ হবে সে দিকটিও সমান গুরুত্বপুর্ণ। তাই যেভাবে যে সিদ্ধান্তে সবাই উপকৃত হয়, তেমন একটি উপায় বা ব্যবস্থাতেই যাবে সরকার।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘ব্যবসায় লোকসান হতে পারে। তা যে কোনো কারণেই হোক। কিন্তু সেটি যদি রিকভার করার সুযোগ থাকে, এতে যদি ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক ও মার্চেন্টদের পাওনা ফেরতের নিশ্চয়তা মেলে, তাহলে অবশ্যই সরকারের উচিত ভোক্তা সুরক্ষার স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটিকে নির্দিষ্ট সময় দেয়া।’
ব্যবসা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আইনজীবী ব্যারিস্টার মেজবাহুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘উপায় একটাই হতে পারে– গ্রাহকের পাওনা ফিরিয়ে দেয়ার স্বার্থে ইভ্যালিকে বাঁচিয়ে রেখে বা ব্যবসা করতে দিয়ে নির্দিষ্ট সময় প্রদান করা। সেখানে কঠোর মনিটরিং বজায় রাখা যেতে পারে। প্রয়োজনে পাওনা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত সরকার মনোনীত কোনো বিশেষজ্ঞ টিমকে ইভ্যালির ম্যানেজমেন্ট কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। তবে এর সব কিছুই নির্ভর করছে এই ঘটনার পর গ্রাহক বা ভোক্তা কতটা আস্থা রাখে তার ওপর।’
