নজর২৪ ডেস্ক- রাজধানীর বসিলায় জঙ্গি তৎপরতায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেপ্তার এমদাদুল হক ওরফে উজ্জল মাস্টার নিষিদ্ধ সংগঠন জেএমবির একটি অংশের প্রধান বলে জানিয়েছে র্যাব।
তিনি একজন স্কুলশিক্ষক ছিলেন। ধর্মীয় বয়ান শুনে উদ্বুদ্ধ হন জঙ্গি তৎপরতায়। একপর্যায় জেএমবির প্রতিষ্ঠাতাদের সংস্পর্শে আসেন। তাদের ফাঁ-সিতে ঝো-লানোর পর তিনি নিজেই একটি অংশের নেতা হয়ে যান।
বৃহস্পতিবার ভোরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলার সিটি ডেভেলপমেন্ট হাইজিংয়ের একটি আবাসিক ভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এমদাদুলের বিষয়ে তাদের কাছে থাকা তথ্য তুলে ধরেন বাহিনীটির মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
র্যাব কর্মকর্তা জানান, ময়মনসিংহের একটি কলেজ থেকে বিএ পাস করে প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন এমদাদুল হক। কিন্তু জড়িয়ে যান উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে, আর জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে তাকে সেই চাকরি থেকে বাদ দেয়া হয়।
এমদাদুল যেভাবে জঙ্গিবাদে
র্যাব কর্মকর্তা জানান, ২০০২ সালে মুক্তাগাছায় একজন জঙ্গি নেতার বয়ান শুনে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হন এমদাদুল। পরে জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদিন বা জেএমপির প্রধান শায়খ আব্দুর রহমানের কাছে দীক্ষা লাভ করেন। জামালপুরে একটি আস্তানায় সামরিক প্রশিক্ষণও গ্রহণ করেন।
র্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘জঙ্গিবাদে ব্যাপক তৎপরতা থাকায় তিনি (এমদাদুল) দ্রুত ময়মনসিংহ অঞ্চলের নেতা হয়ে ওঠেন।’
জানানো হয়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া জেএমবির প্রধান শায়খ আব্দুর রহমান, দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা সিদ্দিকুর বাংলা ভাই ও আরেক নেতা সালাহউদ্দিন সালেহীনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন এমদাদুল। শীর্ষ নেতারা ময়মনসিংহে সফর করলে বিশেষ দায়িত্বে থাকতেন। গোপন আস্তানায় অবস্থান, বৈঠক ও বয়ান আয়োজনে ভূমিকা রাখতেন।
র্যাব কমান্ডার মঈন বলেন, শীর্ষ নেতাদের ফাঁসির রায় কার্যকরের পর জেএমবি নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে। অন্তর্কোন্দলে হয়ে যায় বিভক্ত।
জঙ্গি নেতা সারোয়ার জাহানের নেতৃত্বে জেএমবি সুসংহত হয় এবং গড়ে তোলে জেএমবি ‘সারোয়ার-তামিম গ্রুপ’। এমদাদুল হকও একটি উপদলের নেতা হয়ে ওঠেন।
গত ৪ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহে গ্রেপ্তার চার সন্দেহভাজন জঙ্গিসহ ১০ জন এমদাদের কাছ থেকে বায়াত (দীক্ষা) গ্রহণ করেন বলেও জানায় র্যাব। এই ১০ জনই বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন।
র্যাবের মুখপাত্র জানান, এমদাদুল তার বিশ্বস্ত জেএমবি সদস্যদের সংগঠিত করে একটি দল তৈরির চেষ্টা চালান। তার অর্ধশতাধিক অনুসারী রয়েছে।
এই দলটি ময়মনসিংহ, জামালপুর, উত্তরবঙ্গসহ কয়েকটি জেলায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে। এমদাদুল নিজে তাদের সব কার্যক্রম তদারকি করতেন।
‘অপারেশন’ দলের পাশাপাশি ‘সাইবার ফোর্স’ গঠনেও গুরুত্ব দেন এমদাদুল। করোনাকালে সংগঠনের দাওয়াতের পাশাপাশি সদস্যসংখ্যা বাড়াতে অনলাইনে সক্রিয় হতে থাকেন।
