ফেসবুকে ভিডিও ভাইরাল, মুখ খুললেন সেই ম্যাজিস্ট্রেট বাবা

নজর২৪ ডেস্ক- পিস্তল হাতে শিশুপুত্র। পেছনে দাঁড়িয়ে বিচারক পিতা। তিনি ছেলেকে শেখাচ্ছেন ট্রিগার চাপার কৌশল। ছেলেও একের পর এক ছুড়ছেন গুলি। বিকট শব্দে কেঁপে উঠছে চারপাশ।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদুল ইসলাম জুয়েল তার দুই শিশুপুত্রকে আগ্নেয়াস্ত্র চালনা শেখানোর এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

 

এদিকে ভিডিওটির সত্যতা গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদুল ইসলাম। অনেক আগে বেড়াতে গিয়ে শখের বশে ভিডিওটি করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

 

তিনি জানান, ভিডিওটি ২০১৬ সালের। সে সময় খুলনার কয়রার ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন তিনি। সুন্দরবন এলাকায় একদিন ছেলেদের নিয়ে বেড়াতে যান। সেখানে ছেলেদের গুলি চালানো শেখান।

 

তিনি বলেন, ‘কোনো খারাপ উদ্দেশ্যে করি নাই। গাছকে এইম করে গুলি করা। ওই ভিডিও আমার ফেসবুকে দেয়া ছিল।’

 

জুয়েল বলেন, ‘ওই ভিডিও আমেরিকায় থাকা নিয়াজ মাহমুদ নামে একজন এতদিন পর নেতিবাচক উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট দিয়েছেন। এই নিয়াজ মাহমুদ আমেরিকায় থাকেন। সাংবাদিক, রাষ্ট্র নিয়ে প্রতিনিয়ত আজেবাজে কথা লেখেন।

 

‘আমার বড় বোন তার প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখান করার কারণে, আমার এই ২০১৬ সালের ভিডিও নিয়ে পোস্ট করছে, একাধিক আইডি, ফেক আইডি থেকে।’

 

জুয়েল জানান, কয়রায় ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালীন সুন্দরবনের বনদস্যু ও ডাকাতদের হটাতে গুলি চালাতে হতো।

 

তিনি বলেন, ‘এটা খুব সহজ জিনিস, কিন্তু উনি (নিয়াজ মাহবুব) পারিবারিক দেখাদেখির মানে দেখে নেব- এই মনমানসিকতা থেকে নেগেটিভভাবে উপস্থাপন করেছেন।’

 

শিশুদের হাতে বন্দুক তুলে দেয়া ঠিক ছিল কি না জানতে চাইলে জুয়েল বলেন, ‘তখন তো বন্ধুবান্ধব আমরা এমনি ফায়ার করতাম। একটা গাছ টার্গেট করে ফায়ার করতাম… আমার যেহেতু অস্ত্র আছে দুইটা, আমার ওয়াইফ ও আমার ছেলেমেয়েরা একটু শিখত। শ্যুটিং একটা স্পোর্টস। এরা এখন থেকে শিখলে এটা ঠিক হবে, এটুকুই।

 

‘যেহেতু পাঁচ বছর ধরে ভিডিওটা নিয়ে কেউ কিছু বলেনি ভাই, নিজের ফেসবুকে দেয়া মানে তো সারা দুনিয়ার জন্যে, এটা তো খারাপ উদ্দেশ্য দেয়া না। পারিবারিক রেষারেষির কারণে ওই লোকটা (নিয়াজ মাহমুদ) খারাপভাবে উপস্থাপন করেছে। উনি আমার ভয়াবহ ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।’

 

ফেসবুকে এ ধরনের ভিডিও দেয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন জুয়েল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *