নজর২৪, ঢাকা- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনিকে সর্বোচ্চ আদালতের রায় অনুসরণ না করে রিমান্ডে নেওয়ার ঘটনায় বিচারিক আদালতের ব্যাখ্যা ও নথি (কেসডকেট সিডিসহ) তলব করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দুই তদন্ত কর্মকর্তাকে (কেসডকেট সিডিসহ) সশরীরে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।
এক আবেদনের শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে আজ আবেদনের পক্ষে শুনানি করছেন অ্যাডভোকেট জেডআই খান পান্না, মো. মুজিবুর রহমান ও সৈয়দা নাসরিন। তাদের সঙ্গে ছিলেন মো. শাহীনুজ্জামান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবু ইয়াহহিয়া দুলাল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান।
এর আগে এ বিষয়ে বুধবার শুনানির দিন ঠিক করা হয়েছিল। তবে অ্যাটর্নি জেনারেলের পক্ষ থেকে সময় চাওয়ায় আদালত বৃহস্পতিবার শুনানির জন্য দিন ঠিক করে দেয়।
এর আগে ২৯ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের রায় না মেনে মাদক মামলায় আটক চিত্রনায়িকা পরীমণিকে বারবার রিমান্ডে নেওয়ার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের স্বপ্রণোদিত আদেশ প্রার্থনা করে একটি আবেদন করা হয়। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও শালিস কেন্দ্রের (আসক) পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা নাসরিন এ আবেদন জানান।
এদিকে গত ২৬ আগস্ট পরীমণির বিরুদ্ধে হওয়া মাদক মামলার জামিন আবেদনের ওপর দ্রুত শুনানি করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন পর ১৩ সেপ্টেম্বর জামিন শুনানির বিষয়ে দিন নির্ধারিণের আদেশ কেন বাতিল করা হবে না, রুলে তাও জানতে চান আদালত।
আগামী ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে এবং সে দিন পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেন হাইকোর্ট। পরীমণির জামিন আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
গত ৪ আগস্ট প্রায় চার ঘণ্টার অভিযান শেষে বনানীর বাসা থেকে পরীমনি ও তার সহযোগী দীপুকে আটক করে র্যাব। এ সময় পরীমনির বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়।
পরে ৫ আগস্ট র্যাব-১ বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পরীমনি ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে বনানী থানায় মামলা করে। সে মামলায় তিন দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কারাগারে পাঠানো হয় পরীমনিকে।
গত মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত পরীমনিকে জামিনের আদেশ দেন। বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯ টা ৩২ মিনিটে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান পরীমনি।
