নজর২৪ ডেস্ক- আলোচিত-সমালোচিত অভিনেত্রী পরীমণি। বেশ কিছু দিন ধরে তার জামিন ইস্যু নিয়ে চায়ের দোকান, বিভিন্ন আড্ডা ও কর্মস্থলেও পক্ষে-বিপক্ষে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। পরীমণির জামিন না হওয়ায় নানা কল্পনা-জল্পনা চলছে। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর জামিন শুনানির দিন ধার্য থাকলেও তার জামিন আদৌ হবে কি না তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন পরীমণির আইনজীবীরা।
এই চলচ্চিত্র নায়িকার জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথাও ভাবছেন তারা। সে জন্য সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্নার নেতৃত্বে একদল আইনজীবী সোচ্চার হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
আশুলিয়ার বোট ক্লাবের ঘটনার পর মামলা দায়ের, বনানীর বাসা থেকে র্যাবের হাতে গ্রেফতার ও অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার সাকলায়েনের সাথে জন্মদিনের ভিডিও ফাঁস হওয়ার ঘটনা অবলোকন করেছে মানুষ। পরে তার বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্তভার সিআইডিতে ন্যস্ত হওয়ার পর তিন দফায় তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
পরীমণির আইনজীবী মুজিবুর রহমান বলেন, গত ১৯ আগস্ট পরীমণির জামিন আবেদন নাকচ করেন ঢাকার সিএমএম আদালত। ওই আদেশের বিরুদ্ধে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদন করা হয়েছে। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর জামিন আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
এর আগে পরীমণি গ্রেফতার হওয়ার পর তার জামিন চেয়ে ঢাকার সিএমএম আদালতে তিন দফা আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নাকচ করা হয়। আইনজীবীরা আইনি পরামর্শের জন্য পরীমণির সাথে কথা বলতে চান বলে আদালতে আবেদন করেছেন।
পরীমণির সঙ্গে কথা বলার অনুমতি চেয়ে করা আবেদনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি আইনজীবী আবদুল্লাহ আবু বলেন, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে ও আসামি জামিনও পাননি। এমতাবস্থায় কথা বলার অনুমতি না দেয়ার আবেদন করেন।
পরীমণির আরেক আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত জানান, ‘পরীমণিকে দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরীমণি শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।’
এদিকে চিত্রনায়িকা পরীমণি গ্রেপ্তারের পর অনেকটাই নিরব ছিলো বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। তবে দেরিতে হলেও মুক্তির দাবিতে সরব হতে শুরু করেছেন অনেকেই। বিভিন্ন ব্যনারে হচ্ছে মানববন্ধন-বিক্ষোভ। দ্রুত মুক্তিরও দাবি জানাচ্ছেন নানা সংগঠনের প্রতিনিধি।
অন্যদিকে পরীমণির ঘটনা আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনেরা। এক অনলাইন আলোচনায়, অবিলম্বেই তার মুক্তির দাবি জানানো হয়।
