সব নথি চেয়েছে দুদক, জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে ইভ্যালির শীর্ষ কর্মকর্তাদের

নজর২৪ ডেস্ক- গ্রাহকের দায়-দেনাসহ ব্যবসার যাবতীয় নথিপত্র চেয়ে ইভ্যালির কাছে চিঠি পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ই-কমার্স খাতের আলোচিত-সমালোচিত ওই প্রতিষ্ঠানের এমডি এবং সিইও মো. রাসেলের কাছে এসব নথিপত্র চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে এক সপ্তাহের বেশি সময় আগে।

 

চিঠিতে স্বাক্ষর রয়েছে ইভ্যালির অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান টিমের প্রধান দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরীর। চিঠি পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে ওই সব নথি পাঠাতে বলা হয়েছে।

 

চিঠি পাওয়ার পর ইভ্যালি থেকে কোম্পানি ও ব্যবসার এবং অনুমোদন-সংক্রান্ত কাগজপত্র দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক, সিটি করপোরেশন ও ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) অনুমোদন-সংক্রান্ত নথিগুলো রয়েছে।

 

অন্য নথিপত্রগুলো দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা সময় চেয়ে নিয়েছে। অনুসন্ধান টিমের অন্য কর্মকর্তা হলেন, দুদকের উপসহকারী পরিচালক সিহাব সালাম।

 

দুদকের চিঠিতে ইভ্যালি কর্তৃপক্ষের কাছে চাওয়া তথ্য তালিকার মধ্যে রয়েছে- কোম্পানি ব্যবসা পরিচালনার জন্য সব ধরনের লাইসেন্স; ব্যবসায়িক মালিকানা সংক্রান্ত তথ্য, কতগুলো ক্রয় আদেশের বিপরীতে পণ্য সরবরাহ করা হয়নি, ওই সব আদেশের বিপরীতে টাকার পরিমাণ কত, ক্রেতার আদেশের বিপরীতে বকেয়া কীভাবে হলো, কোন পদ্ধতিতে হলো- এসব তথ্য; গ্রাহকের দায় শোধ করতে তাদের পরিকল্পনা, বিদ্যমান ব্যবসায়িক সংকট মোকাবিলায় তাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং ব্যাংকের ঋণসহ (যদি থাকে) সব রকম দায়-দেনার হিসাব।

 

এ ছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত শুরু হওয়ার পর ইভ্যালি এ পর্যন্ত কতজন গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ করেছে, কোম্পানি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত কত টাকার ভ্যাট, ট্যাক্স দেওয়া হয়েছে, বিভিন্ন অর্থবছরে কোম্পানির নিরীক্ষা প্রতিবেদন, কোম্পানির সার্বিক খরচের হিসাব, কোম্পানি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে খরচ হওয়া অর্থের উৎস, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পণ্যের অফারে এ পর্যন্ত গ্রাহকদের ছাড় দেওয়া টাকার পরিমাণ, এ পর্যন্ত যত টাকার অফার দেওয়া হয়েছে, তার মোট মূল্যের হিসাব- এসবও জানতে চেয়েছে দুদক।

 

ই-কমার্স খাতের এ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ হলে বঞ্চিত গ্রাহকরা তাদের পাওনা অর্থ ফেরত পাবে না। গ্রাহক যাতে পাওনা টাকা ফেরত পায়- অনিয়ম ও দুর্নীতি অনুসন্ধানের পাশাপাশি দুদক এই বিষয়টিও বিবেচনায় রেখেছে। ইভ্যালি ইতোমধ্যে জানিয়েছে, সারাদেশে তাদের গ্রাহক সংখ্যা ৭০ লাখ।

 

ইভ্যালি নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চলমান তদন্তের দিকেও খেয়াল রাখছে দুদক। প্রতিষ্ঠানটির অনিয়ম, দুর্নীতিসহ সার্বিক কার্যক্রম তদন্ত করতে এই মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি কাজ করছে। এরই মধ্যে ইভ্যালির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বক্তব্যও নিয়েছে কমিটি। তদন্ত শেষে মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত নেবে, সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাও সংগ্রহ করবে দুদক।

 

দুদকের চাহিদাপত্র অনুযায়ী সব ধরনের নথিপত্র সরবরাহ করা হলে সেগুলো যাচাই করা হবে। এসব ক্ষেত্রে অনুসন্ধানের কাজ শেষে অভিযোগ সম্পর্কে ইভ্যালির এমডি ও সিইও মো. রাসেল এবং প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মো. রাসেলের স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পুরো অনুসন্ধান শেষে অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িত শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *